
হাওরাঞ্চলে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়েছে খেত, অনেকে ঘরে তুলছেন আধা পাকা ধান
ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে আসা ঢলে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরাঞ্চলে বিস্তৃত এলাকার ধানখেত তলিয়ে গেছে।

ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে আসা ঢলে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরাঞ্চলে বিস্তৃত এলাকার ধানখেত তলিয়ে গেছে।

গত মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কথা জানায়।

‘পানি হু হু করে ঢুকেছে। ১০ মিনিটের মধ্যে বুকসমান পানি হয়ে যায় দোকানে। কিছুই বের করতে পারিনি। আমি পথে বসে গেলাম।’ কথাগুলো বলতে বলতে থেমে যান তানভির আহমেদ। চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে তাঁর ‘আয়াত সার্জিক্যাল’ নামের ওষুধের দোকানটি এখন পানির নিচে। তাঁর ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার বেশি।

খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষতি, দুশ্চিতায় কৃষক।

মৌলভীবাজারে টানা কয়েক দিনের হালকা ও ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন হাওরে পানি বেড়েছে।

৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদী হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এটাই গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি।

বৃষ্টির পানি সড়ক ছাপিয়ে ঢুকেছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এতে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে উব্দাখালী, ভুগাই, মহাদেওসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি হাওর ও বিলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে হাওর ও নদীতে পানি বেড়ে কৃষকের চোখের সামনেই জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে।

এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিতে নেত্রকোনার ধনু, কংস, সোমেশ্বরী, ভুগাই, উব্দাখালি, মগরাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।