চকরিয়ায় নৌকাডুবিতে শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দী ৩০ হাজার পরিবার
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে।
আজ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিওসি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
দেশের পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন ঘটনায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র, নগদ টাকা ও খাদ্যসহায়তাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি।
এত পানি পেয়েও পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে তা ধরে রাখতে পারছে না দেশ—ফলে জলাবদ্ধতা, পানির সংকট ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদে ভেসে আসা কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন আবদুল আলম (৩২) নামে এক যুবদল কর্মী। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
সুনামগঞ্জে গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এবারের মৌসুমে সুনামগঞ্জে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টি।
চট্টগ্রামে টানা পঞ্চম দিনের অতি ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাহাড়ধসে ২৯ জনের মৃত্যু এবং রেললাইন ডুবে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ।
দেশজুড়ে টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টির ফলে ৪ বিভাগে আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম–১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিশেষ করে তাঁর লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীর এলাকার মানুষ পানিতে ভাসছে।
গানসু প্রদেশে ভূমিধসে ২১ জনের মৃত্যু এবং টাইফুন মাইসাকের প্রভাবে গুয়াংসি অঞ্চলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে; ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।