মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও surrounding অঞ্চলে টানা পঞ্চম দিনের মতো অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের পর ১০টার দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও আকাশে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা থাকায় যেকোনো সময় পুনরায় বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে রেকর্ড করা হয়েছে ২৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি। উল্লেখ্য, ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয় এবং চট্টগ্রামে গত চার দিন ধরে এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটে যানবাহনের চলাচল কমে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অফিস-আদালত ও কর্মস্থলে যেতে গিয়ে ভোগান্তির পাশাপাশি অনেকে জরুরি প্রয়োজনেও বাইরে বের হতে পারছেন না। এছাড়া অতি ভারী বৃষ্টির ফলে এই পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে মোট ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ আজ ভোরে বান্দরবানের লামার মিশনপাড়ায় দুই পরিবারের পাঁচ সদস্য পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে এক কিশোরী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত ২৯ জনের মধ্যে অধিকাংশের পরিচয় শিশু হিসেবে জানা গেছে।

এদিকে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল আজও বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত রেললাইন ডুবে আছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি সরলেই ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবেই চট্টগ্রামে টানা পাঁচ দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আরও দুই দিন চলতে পারে। গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল। এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।