
এবার এলএনজি করে গ্যাস আনার চিন্তা
ভোলা থেকে সিএনজি করে ঢাকায় গ্যাস আনার পরিকল্পনা ব্যর্থ। এখন এলএনজি করে আনার নতুন পরিকল্পনা।

ভোলা থেকে সিএনজি করে ঢাকায় গ্যাস আনার পরিকল্পনা ব্যর্থ। এখন এলএনজি করে আনার নতুন পরিকল্পনা।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, পর্যটন ও আর্থিক খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কাতার ও কুয়েত।

ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। একই বৈঠকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত। সয়াবিন তেলের মোট খরচ ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ উভয়ই কমে গেছে।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। গতকাল একদিনে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৬% এবং এলএনজির দাম ১৮% কমলেও সরবরাহ বাড়ার আশা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে আটকে থাকা তেল-এলএনজি ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য আপাতত স্বস্তি এসেছে।

অনেক দেশের পেট্রল, ডিজেল, তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে যাবে। যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ১৮ মার্চ ভোরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই খবরের পরই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ে।

এসব জাহাজের মধ্যে চারটি এলএনজি, দুটি এলপিজি, বাকি চারটি ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য বহন করছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানির এক–ষষ্ঠাংশ এবং এলএনজির এক–তৃতীয়াংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মধ্যেই ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। প্রণালি বন্ধ ঘোষণার আগেই এসব জাহাজ পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।