দেশের জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে আট কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং পাঁচ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এলপিজি বাজারে সরকারের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং আপৎকালীন চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে স্পিড মার্কেটিং করপোরেশনের (স্পিড গ্রুপ) কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে পাঁচ হাজার টন এলপিজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই এলপিজির মধ্যে প্রোপেনের পরিমাণ থাকবে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এবং বিউটেনের পরিমাণ ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। সৌদি আরামকোর সিপি মূল্যের সঙ্গে প্রতি টনে অতিরিক্ত ৯৭ মার্কিন ডলার (সিএফআর ভিত্তিতে) দরে এই এলপিজি কেনা হবে।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধজনিত ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে মোট আট কার্গো এলএনজি কেনার চারটি পৃথক প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গ্লোবাল ফুয়েল সাপ্লাইজ পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো, মালয়েশিয়ার প্লেনটিটিউড এনার্জি এসডিএন বিএইচডির কাছ থেকে দুই কার্গো এবং ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে।
জ্বালানির পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) জন্য দরপত্র ছাড়াই ২০০টি ইলেকট্রিক বাস, চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এই বাস কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
সরকারি অর্থায়নে কেনা এই ২০০টি ইলেকট্রিক বাসের মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসও থাকবে। একই সঙ্গে বাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজও সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিআরটিসির জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইকুইটি হিসেবে বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।