কাতারের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

গতকাল সোমবার কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি বলেন, একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটির’ কারণে রাস লাফফান এলএনজি কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। তিনি এ ঘটনায় কোনো ‘শত্রুতামূলক’ কর্মকাণ্ড বা হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

আল কাবি আরও বলেন, এ ঘটনার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।

.

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইরানের এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল কাতার। গত মার্চ মাসে ইরানি হামলার কারণে কাতারের বিশাল গ্যাস কমপ্লেক্সটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কর্মীরা সেটি আবার চালুর কাজ শুরু করার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে।

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল, কোনো নাশকতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড নয়। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মাত্র দুই দিন আগে এটি আবার চালু করা হয়।’

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, বিস্ফোরণে নিহত সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। তবে বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।

.কাতারে এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮.

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো ধরনের গ্যাস দুর্ঘটনা বা লিকেজ হয়নি, যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি কেন্দ্রটি পরিচালনা করে। বিস্ফোরণ ঠিক কোথায় ঘটেছে বা এতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। আল কাবি একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহীও। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।