চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তাঁর মতে, একটি নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ড সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় আলোচনা চালিয়ে যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে, যার ফলে শ্রমিক, পোশাকশিল্প এবং সামগ্রিকভাবে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।
আজ বুধবার রাতে সচিবালয়ে অবস্থিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের বর্তমান শ্রম পরিস্থিতির পর্যালোচনার লক্ষ্যে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের একটি ত্রিপক্ষীয় জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।
মজুরি বোর্ডের কার্যকারিতার ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সেখানে যাঁরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সাথে আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে সবার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি সুনিশ্চিত করবেন।’
তিনি আরও জানান যে, মজুরি বোর্ড গঠনের পর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় বৈঠকের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার পর ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।
শ্রমিকদের অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়েই বিশ্বজুড়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড পরিচিতি পেয়েছে। সরকার সব সময় সর্বোচ্চ মমত্ববোধ ও আন্তরিকতা নিয়ে শ্রমিকদের পাশে থাকবে।
পোশাকশিল্পের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ সভায় শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিক প্রতিনিধি এবং সরকার—আমরা সবাই মিলে একসাথে বসেছি। কারণ, এই দেশটাকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় এবং আমাদের গার্মেন্টস সেক্টরের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়, তবে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।’
এদিকে পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মাঝে কিছু বহিরাগত এসে উসকানি দিচ্ছে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
মাহদী আমিনের দাবি, কিছু সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটলেও নিরীহ সাধারণ শ্রমিকেরা এসবের সঙ্গে জড়িত নন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।
সরকার আশা করছে যে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় কাজে যোগ দেবেন। একই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সাথে নিয়মিত সংলাপ ও পরামর্শের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
উক্ত ত্রিপক্ষীয় সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ ও গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুসহ শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।