শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সহিংসতা, ভাঙচুর এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত থাকবে, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।

আজ সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি সতর্ক করে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের যে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা, তা সফল হবে না।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট মহল শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তাঁদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে পলাতক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্যপ্রমাণ ইতিমধ্যে উঠে এসেছে। তবে এই তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ তিনি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেননি।

মাহদী আমিন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গঠনমূলক ও বহুমাত্রিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের একটি ন্যায়সঙ্গত, যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হবে। তবে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, যথাসময়ে মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগের পরও একটি চিহ্নিত মহল গার্মেন্টস শিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’

শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কারখানায় আক্রমণ ও আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ও বক্সে ভাঙচুর কিংবা যানবাহন ও স্থাপনায় হামলার মতো স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।’

শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, গুজব কিংবা উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। পোশাকশিল্পের গুরুত্ব এবং পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনা করে শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার সব সময় পাশে থাকবে। কারণ, এই শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি গভীরভাবে জড়িত।

কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খোদ শ্রমিকরাই বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। তাঁর মতে, এতে বেকারত্ব বাড়বে, রপ্তানি আয় হ্রাস পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না। সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টিও তাঁর ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, অন্যান্য খাতের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। এই লক্ষ্যেই মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ এবং নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মাহদী আমিন মনে করিয়ে দেন, পোশাকশিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরবরাহব্যবস্থা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত। তাই মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।