তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছয় সদস্যের একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকার। সরকার, মালিক এবং শ্রমিক—এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বোর্ডটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
নবগঠিত এই মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। বোর্ডের সদস্য হিসেবে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ-র পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। অন্যদিকে, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন (বিজিআইডব্লিউএফ)-এর সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এছাড়া নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মজুরি বোর্ড অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি অবগত হয়েছি। আশা করি, সরকার দ্রুত বোর্ডের কার্যক্রম শুরু করবে।’
উল্লেখ্য যে, নতুন করে মজুরি নির্ধারণের দাবিতে গত বেশ কিছু দিন ধরে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় পোশাক শ্রমিকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এই বিক্ষোভ চলাকালীন দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একই ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে গাজীপুরেও, যেখানে শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান।
পোশাক শ্রমিকদের জন্য এই মজুরি বোর্ড গঠনের কথা গতকাল একটি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই।