ইসরায়েলের কট্টর ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পতনের লক্ষ্যে একজোট হয়ে আজ মঙ্গলবার বৈঠকে বসেছেন চারটি প্রধান বিরোধী ইহুদি দলের নেতারা। এই বৈঠকে তাঁরা অবিলম্বে জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে নতুন নেসেটের (পার্লামেন্ট) শপথ গ্রহণের পূর্বেই নিজেদের সংসদীয় কৌশলগুলোর সমন্বয় করতে একমত হয়েছেন।

তবে এই বিরোধী ইহুদি দলগুলো আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে কীভাবে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, বিরোধী ইহুদি শিবিরের কিছু নেতা শুরু থেকেই আরব দলগুলোকে জোটের অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াহাদ চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু প্রধান অ্যাভিগদার লিবারম্যান দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা ইয়াশার চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

যৌথ বিবৃতিতে উল্লিখিত সেই চারটি মূল নীতি হলো— ইসরায়েলকে একটি ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া; স্বাধীনতার ঘোষণার মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকা; সকলের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজা উপত্যকায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার পাশাপাশি শাসনের অবসান ঘটাতে কাজ করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দলগুলোর নেতারা ঐক্যবদ্ধ এবং তাঁরা ৭ অক্টোবরের সরকারকে হটিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠন করতে এবং নেসেটে থাকা স্পষ্ট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবেন।’

গত সপ্তাহের নির্বাচনে উগ্র ইহুদিবাদী নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। বর্তমানে তাঁর জোটের হাতে রয়েছে ৫৩টি আসন, আর বিরোধী ইহুদি দলগুলো যৌথভাবে ৪৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। আরব দলগুলো ১৯টি আসন জিতে নেসেটে অবস্থান করছে, যার ফলে কেবল দুটি আরব দলের সমর্থন পেলেই বিরোধী ইহুদি দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তবে এই রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে নতুন সরকার গঠনের পথটি এখনও অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে।

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের প্রথম দায়িত্ব বা ম্যান্ডেট যাতে গাদি আইজেনকট পান, সে বিষয়ে বিরোধী নেতারা তাঁদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি, জোটের চুক্তি এবং নীতিগত রূপরেখা তৈরির কাজ অবিলম্বে শুরু করার বিষয়েও তাঁরা একমত হয়েছেন।

নির্বাচনের ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর দল লিকুদের পরিচালিত ‘বিপজ্জনক ও বেপরোয়া প্রচারের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হিব্রু সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লিকুদ পার্টির এমপি আমির ওহানার পরিবর্তে নেসেটের স্পিকার হিসেবে কাকে নিয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে দলীয় নেতারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই পদের জন্য বি’ইয়াহাদের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়ার লাপিদকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আগামী সোমবারের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তাঁরা সম্মত হয়েছেন।