সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে এবার সবচেয়ে শক্তিশালী দল কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি বাংলাদেশের নাম নিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ নওশাদ মুসা। স্বাগতিকদের সামর্থ্য নিয়ে তাঁর মনে কোনো সন্দেহ নেই।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। তবে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করলেও নিজের দলের লক্ষ্য নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই ভারতীয় কোচের। ভারত ঢাকায় এসেছে তাদের দশম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আজ দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছে ভারত জাতীয় ফুটবল দল। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন নওশাদ। তাঁর দৃষ্টিতে, এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল বাংলাদেশ। ভারতীয় কোচ বলেন, ‘আমার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব।’
নওশাদ মুসা বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখলেও শিরোপার লড়াইয়ে ভারতকে পিছিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। নয়বারের চ্যাম্পিয়ন দলটি এবারও তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। তবে এবারের অভিযানে ভারতের মূল ভরসা মূলত তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর। ভারতের মূল জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টের দলে নেই। মূল দলের কোচ খালিদ জামিলের পরিবর্তে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নওশাদ মুসা। ২৮ সদস্যের এই দলে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের খেলোয়াড়ের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারতের মূল জাতীয় দল। এছাড়া ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চলমান থাকায় ক্লাবগুলো থেকেও শুরুতে সব খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না নওশাদ। ফলে প্রথম ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল নামানো সম্ভব হবে না ভারতের পক্ষে।
এই পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন কোচ। তবে বর্তমান দল নিয়ে তিনি হতাশ নন। তিনি বলেন, ‘৫ তারিখের পর থেকে লিগে ১০টি দল খেলবে। সেখানকার কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রথম ম্যাচের আগে পাচ্ছি না। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তবে যে দলটি পেয়েছি, সেটিও খারাপ নয়। সত্যি বলতে, আমাদের দলটাও শক্তিশালী।’
ভারতের এই তরুণ দলকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। উদাহরণ হিসেবে ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কথা বলা যায়। সেবারও অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে এসেছিল ভারত। কিন্তু সেই দল নিয়েই তারা ফাইনালে পৌঁছেছিল। সেমিফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল ভারত। এরপর ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। ফলে তারকা খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতেও সাফ জেতার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে।
সাফ ফুটবলে ভারতের সাফল্যের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৫, ২০০৯, ২০১১, ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সব মিলিয়ে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ফাইনালে তারা অতিথি দল কুয়েতকে পরাজিত করেছিল।
তবে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বাংলাদেশের পাল্লা ভারী। গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের মাঠে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটি হয়েছিল গোলশূন্য ড্র।
আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে দুই দল। বেলা সাড়ে তিনটায় ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আর রাত আটটায় স্বাগতিক বাংলাদেশের লড়াই হবে ভুটানের বিপক্ষে।