আসিয়ান কাপের সেই দুঃস্বপ্ন এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগকে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচেই ৯টি গোল খাওয়ার স্মৃতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুরো আসিয়ানে তিন ম্যাচে মোট ১৩টি গোল হজম করেছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। তবে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আত্মবিশ্বাসী জাতীয় দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, দলগতভাবে রক্ষণভাগ সামলাতে পারলে প্রতিপক্ষের সামনে আর এমন গোলের বন্যা বইবে না।

আগামী ৫ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ঘরের মাঠে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি হিসেবে আজ জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নেমেছে বাংলাদেশ দল। অনুশীলনের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তপু বর্মণ আসিয়ান কাপের ব্যর্থতা এবং দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাফের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেন।

আসিয়ান কাপে রক্ষণভাগের করুণ দশা প্রসঙ্গে তপু বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে ৩ গোল খেয়েছি, শেষ ম্যাচে ৯ গোল খেয়েছি। এটা খুবই হতাশার। শেষ কবে আমরা ৯ গোল হজম করেছি, জানি না। তবে গোল হজমের ক্ষেত্রে শুধু গোলকিপার বা ডিফেন্ডারদের দোষ দেখলে হবে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলগতভাবে রক্ষণ সামলানো। তবে এটা বলতে পারি, সাফে আমরা এত গোল হজম করব না।’

সেন্টারব্যাক হিসেবে রক্ষণভাগের নেতৃত্ব দিয়ে সতীর্থদের সর্বোচ্চ সহায়তা করতে চান তিনি। এই বিষয়ে তপু জানান, ‘আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। পেছন থেকে কীভাবে খেলতে হবে, কীভাবে রক্ষণভাগকে শক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আমার ভূমিকা থাকবে। আমি সতীর্থদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশ দলের জন্য এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ আট বছর পর নিজেদের মাঠে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই বিশেষ মুহূর্তটি নিয়ে তপুর অনুভূতি, ‘সাফ আমাদের জন্য অনেক বিশেষ। আট বছর পর আবার নিজেদের মাঠে খেলছি। আমাদের লড়াই করতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, অর্থাৎ ২৩ বছর পর শিরোপা জিততে হবে। সে জন্য আমাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ভুটান। তবে ৫ নভেম্বরের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলীর অনুপস্থিতিতে কিছুটা চিন্তিত সতীর্থরা। বিশেষ করে হামজার অভাব অনুভূত হবে বলে মনে করছেন তপু। তবে দলগত প্রচেষ্টায় এই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। হামজাকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘হামজা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। প্রথম ম্যাচে সে না থাকলে অবশ্যই তাকে মিস করব। তবে আমরা যদি দলগতভাবে খেলতে পারি, তাহলে তার অনুপস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো শুরু করতে পারলে পরের পথ সহজ হবে।’

উল্লেখ্য, ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সাথে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে লড়াই করবে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। উভয় গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৪ নভেম্বর এবং চূড়ান্ত লড়াই বা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর।