ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুতেই পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদ। ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে ব্যস্ত থাকায় এই দুই প্রবাসী ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে লাল-সবুজদের। তবে ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে তাদের দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর দিনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ নভেম্বর জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা হামজার। একই দিনে ফারহানেরও আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোচ ডুলি বলেন, ‘হামজা ৯ নভেম্বর আসবে। ফারহানও সম্ভবত ৯ নভেম্বর আসবে, কাছাকাছি কোনো একটা সময়ে। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা তাদের পাব।’

মূলত ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির সঙ্গে সাফের সূচির মিল না থাকায় এই সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা। অথচ ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হবে ৯ নভেম্বর। ফলে এর আগে বিদেশি ক্লাবগুলো জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার ছাড়তে বাধ্য নয়।

বিষয়টি নিয়ে নিজের অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন ডুলি। তার মতে, ক্লাবগুলোর নিজস্ব প্রতিযোগিতার ব্যস্ততা থাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের সময়মতো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘ক্লাবের লিগ ম্যাচ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের তারা ছাড়তে চায় না। এমনকি তাদের ছাড়ার বাধ্যবাধকতাও নেই। ক্লাব চাইলে বলতে পারে, এখন আমাদের সঙ্গেই থাকতে হবে। যখন ছাড়তে বাধ্য হব, তখনই ছাড়ব। সেটা ৮ নভেম্বর।’

ফুটবলারদের দেশে পৌঁছানোর বিষয়টিও সহজ নয় বলে মনে করেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘তারা ৯ নভেম্বর রওনা দিতে পারে, আবার ক্লাবের ম্যাচ শেষ করেই আসতে পারে। সবকিছু নির্ভর করবে ফ্লাইটের ওপর। মানুষ যতটা সহজ মনে করে, বিষয়টি ততটা সহজ নয়।’

এদিকে সাফ সামনে রেখে রোববার থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প। ক্যাম্পের জন্য ডাকা ৩০ ফুটবলারের মধ্যে প্রথম দিন রিপোর্ট করেছেন ২১ জন। সাফের জন্য ঘোষিত ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দলের বাইরে ইসহাক আকান্দো ও মো. আসিফকে শুধু অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হামজা ও ফারহান ছাড়া অন্য প্রবাসী ফুটবলারদের বেশির ভাগের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে প্রস্তুতির সময় কম পাওয়া এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ডুলি। সাফ কর্তৃপক্ষের কাছে গত ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ২৮ সদস্যের তালিকা জমা দিতে হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে কেউ চোটে পড়লে বিকল্প খুঁজে নেওয়ার সুযোগও সীমিত।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘কেউ আগের দিন ম্যাচ খেলে আজ এসে যদি হাঁটুতে সমস্যা নিয়ে হাজির হয়, তাহলে আমাদের কী করার আছে? কিছুই করার নেই। তাকে খেলার উপযোগী করে তুলতে হবে।’

ডুলি জানিয়েছেন, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণও কিছুটা ফিটনেস সমস্যা নিয়ে ক্যাম্পে ফিরেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে খেলোয়াড়দের পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলাই এখন কোচিং স্টাফের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। স্বাগতিক বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ৫ নভেম্বর রাত ৮টায় ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে ডুলির দল। এরপর ১১ নভেম্বর একই সময়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার।

প্রথম ম্যাচে দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচের আগে হামজা ও ফারহানের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির। তবে অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের ম্যাচ খেলার জন্য কতটা প্রস্তুত করা যাবে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।