সাহিত্যের আঙিনায় নূরে জান্নাতের লেখনী এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তার সাম্প্রতিক কবিতায় ফুটে উঠেছে তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অভাব এবং এক গভীর একাকীত্বের কথা। কবির ভাষায় ফুটে উঠেছে জীবনের এক রূঢ় বাস্তবতা এবং প্রিয়তমার প্রতি অন্তহীন অপেক্ষা।

কবিতাটির শুরুতেই ক্ষুধার এক তীব্র অনুভূতির কথা বলা হয়েছে। কবি লিখেছেন, “ক্ষুধার তীব্রতা—তোমার ঘর গেরস্থালি জানালা ও জলেদের বাহারি আহারের!”

প্রিয়জনের সান্নিধ্য পাওয়ার আকুতিকে জেলেরা যেভাবে জাল ফেলে মাছ ধরেন, কবি সেই রূপকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “জেলেদের মতো বুকের জালে মাছেদের মতো কত দিন তুলে নাও না, কত দিন শীতের রাতের পাখি হয়ে গা ঘেষো না।”

সময়ের নিষ্ঠুরতা এবং প্রাপ্তির অভাব ফুটে উঠেছে কবিতার পরবর্তী পংক্তিগুলোতে। কবি আক্ষেপ করে বলেছেন, “কতগুলো চাঁদ ক্ষয়ে রাত গেল দিনের ভোগে কেবল আমাদের সময়ের সময় ভাগে হলো না!”

দিন দিন বাড়তে থাকা শূন্যতা এবং মানসিক যন্ত্রণাকে জুতোর গ্লানির সাথে তুলনা করেছেন কবি। তিনি লিখেছেন, “ক্ষুধারা দিন দিন বেড়ে চলছে.. বেড়ে চলছে জুতোর গ্লানির মতো পায়ের প্রতিধ্বনি”

তবে এই যন্ত্রণার মাঝেও এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। কবি উল্লেখ করেছেন, “তবু পা ও জুতো আলাদা হয় না! আলাদা হয় না চুম্বন ও চুম্বক আলাদা হয় না থাল ও ভাতের মাখামাখি!”

কবিতার শেষাংশে এক বিষণ্ণ পরিবেশের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হয় না। কবি লিখেছেন, “তেমনই তুমি–আমি দূর বনে আঁধারে ঝাউ পাতা দুলছি বাতাসের প্রহসনে, ঘড়ির অনশনে কাঁটার কটাক্ষে অপেক্ষার উপেক্ষাই!”