প্রথম দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদের ছয় বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আবারও বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা ও টেলিভিশন উপস্থাপক রিমি টমি। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দ্বিতীয়বার বিয়ের এই সুখবর শুনিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি জানান, তাঁর জীবনে নতুন একজন মানুষের আগমন ঘটেছে এবং খুব শীঘ্রই তাঁরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
প্রকাশিত ওই ভিডিওতে রিমি বলেন, “আজ এমন একটি খবর জানাতে যাচ্ছি, যা আপনাদের অনেককেই আনন্দ দেবে। আমি ঘুরে বেড়াতে এবং একা থাকতে ভালোবাসি। পরিবারের সবাই সব সময় আমার পাশে ছিলেন। তারপরও মনে হতো, জীবনে একজন জীবনসঙ্গীর অভাব রয়েছে। অবশেষে ২০২৬ সালে একজন মানুষের আগমন ঘটেছে আমার জীবনে।”
তবে রিমি তাঁর নতুন জীবনসঙ্গীর নাম বা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেননি। তিনি কেবল জানিয়েছেন যে, তাঁর হবু স্বামী কোনো তারকা নন এবং অভিনয় কিংবা গানের জগতের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি তিনি কোটিপতিও নন।
এই বিষয়ে রিমি বলেন, “তিনি অভিনেতা নন, গায়ক নন, কোনো বিখ্যাত মানুষও নন। এমনকি কোটিপতিও নন। জীবনসঙ্গী এমন কেউ নন, যাঁকে চাইলেই দ্রুত খুঁজে নেওয়া যায়। দুজনের মধ্যে খোলামেলা বোঝাপড়া থাকতে হবে, মানসিকতার মিল থাকতে হবে। এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করবেন এবং মানসিক শান্তি দেবেন। অর্থ কিংবা খ্যাতি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি শুধু এমন একজন মানুষ চেয়েছি, যিনি আমার যত্ন নেবেন এবং আমাকে শান্তিতে রাখবেন।”
নতুন এই সম্পর্কটিকে ঈশ্বরের বিশেষ উপহার হিসেবে দেখছেন রিমি। তাঁর ভাষায়, “আমার মনে হচ্ছে, এটি ঈশ্বরের দেওয়া উপহার। জীবনের পথে এগিয়ে গেলেই বাকি সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি বুঝেছি, জীবনে অর্থ কিংবা খ্যাতিই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। আমার শুধু এমন একজন মানুষ দরকার ছিল, যিনি শান্ত স্বভাবের, আমার যত্ন নেবেন এবং আমার সব দিক বুঝতে পারবেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা একে অপরকে বুঝতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের পর আমার মন অনেক শান্ত হয়েছে। ভালো একটি জীবন পাওয়ার আশাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
গায়িকা জানান, পরিচয়ের সময় খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও তাঁদের দুজনের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। নতুন জীবন শুরু করতে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। ভিডিওর শেষ পর্যায়ে রিমি জানান, খুব শীঘ্রই তিনি তাঁর হবু স্বামীর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করবেন। সেই সঙ্গে ভক্তদের কাছে ভালোবাসা ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন তিনি।
রিমি টমির ব্যক্তিগত জীবন ও সংগীত ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল কেরালার ত্রিশুরে ব্যবসায়ী রয়েস কিঝাকুডানের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রিমির। তবে দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্যের পর তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২০ সালের ১৬ এপ্রিল পারস্পরিক সম্মতিতে এরনাকুলাম পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান রিমি ও রয়েস।
সংগীত জীবন শুরু করেছিলেন ‘অ্যাঞ্জেল ভয়েস’ দলের সদস্য হিসেবে। পরবর্তীতে মিমিক্রি শিল্পী ও সংগীত পরিচালক নাদির শাহের নজরে আসেন তিনি। নাদির শাহই তাঁকে পরিচালক লাল জোস এবং সংগীত পরিচালক বিদ্যাসাগরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ২০০২ সালে ‘মিসা মাধবন’ সিনেমার মাধ্যমে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটে। ওই ছবির ‘চিঙ্গামাসাম’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং দীর্ঘ সময় শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।
গানের পাশাপাশি টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি পান রিমি। তাঁর গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের তালিকায় রয়েছে ‘ছাতিক্কাথা চান্থু’, ‘নাম্মাল থাম্মিল’, ‘উদয়ানানু থারাম’, ‘বলরাম ভার্সেস থারাদাস’, ‘ছোটা মুম্বাই’, ‘চকলেট’, ‘মুল্লা’, ‘এলসাম্মা এন্না আনকুট্টি’ ও ‘বডিগার্ড’। মালয়ালম চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় গানগুলোর মাধ্যমে সংগীতজগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। এবার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করতে যাচ্ছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী।