মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী সুজাত শিমুল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাঁর জীবনসঙ্গিনী জান্নাতুন নেছা, যিনি পেশায় একজন থিয়েটার ও আবৃত্তিকর্মী। গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় পারিবারিক পরিবেশে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিয়ের আয়োজনের চেয়েও সবার মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে তাঁদের নির্ধারিত দেনমোহরের অঙ্কটি নিয়ে। কারণ, সুজাত শিমুল ও জান্নাতুন নেছার বিয়ের দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে মাত্র ৯৯৯ টাকা।

কেন দেনমোহরের অংক হিসেবে ৯৯৯ টাকা বেছে নিলেন এই দম্পতি? এর পেছনে রয়েছে তাঁদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা, জীবনের পূর্ণতা ও অপূর্ণতার দর্শন এবং বিয়ের প্রতি এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মুক্তকণ্ঠকে সুজাত শিমুল জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তাঁরা চেয়েছিলেন দেনমোহরের সংখ্যাটি যেন হয় ব্যতিক্রমী। এমন একটি সংখ্যা নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তাঁরা, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত এবং যার একটি বিশেষ অর্থ বহন করার ক্ষমতা রয়েছে। সুজাত শিমুল বলেন, ‘আমরা যখন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই, তখন ভাবছিলাম, কাবিনটা হবে একটা ইউনিক নম্বর, যেটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই প্রয়োজনীয়। আমরা বিয়েকে জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি অংশ মনে করি। বিয়ের মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়, একধরনের পরিপূর্ণতা আসে। সেই প্রয়োজনীয়তার জায়গা থেকেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিপদ-আপদে যে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি, সেখান থেকেই ট্রিপল নাইনের ধারণাটা আসে।’

৯৯৯ সংখ্যাটির মধ্যে আরও একটি গভীর তাৎপর্য খুঁজে পেয়েছেন সুজাত শিমুল। তাঁর মতে, ‘৯৯৯ পাশাপাশি থাকলেও সংখ্যাটির পরের ঘরে একটি শূন্যস্থান রয়ে যায়। এটি মানুষের জীবনের অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষের জীবন কখনোই পুরোপুরি পরিপূর্ণ হয় না; কোথাও না কোথাও কিছুটা ঘাটতি থেকেই যায়। এসব কারণে আমরা ট্রিপল নাইন, অর্থাৎ ৯৯৯ বেছে নিয়েছি। একের জন্য পরিপূর্ণতা, অর্থাৎ সহস্রের যে ঘর, সেটি পূর্ণ হয়নি। আরেকটা মজার বিষয় হলো, আমার শ্বশুর পুলিশে ছিলেন। সেটিও ৯৯৯ পছন্দ করার একটা কারণ। সব মিলিয়ে ৯৯৯ সংখ্যাটা আমাদের পছন্দের।’

তবে এই বিশেষ সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল সংখ্যার প্রতি আকর্ষণ বা ব্যক্তিগত স্মৃতিই নয়, বরং বিয়ে ও দেনমোহর নিয়ে সমাজে প্রচলিত প্রচলিত ধারণার প্রতি তাঁদের এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে। এই প্রসঙ্গে সুজাত শিমুল বলেন, ‘সবচেয়ে বড় যে বার্তা দিতে চেয়েছি, আমরা বিয়েতে কাবিন করতে গিয়ে এত লাখ টাকা, এত লাখ টাকা—এর মধ্যে যেন মনে হয়, একটা বিনিময় কিংবা আস্থা-অনাস্থার বিষয় সামাজিকভাবে হয়ে আসছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, নারী হিসেবে একটা সাহস—৯৯৯ টাকা কাবিনে বিয়ে করছে। অনেক কিছু মিলেই এই ৯৯৯ টাকার ভাবনাটা এসেছে।’

গতকাল বিয়ের আসরে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হকসহ বর ও কনের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।