গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করা না হলে সরকার পতনের লক্ষ্যে একদফা আন্দোলনের ঘোষণা দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় সাতক্ষীরা শহরের জামতলা এলাকায় লংমার্চ পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

সভায় রাশেদ প্রধান জানান, লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করার পর তিনি খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় সফর করেছেন। আগামী দিনের আন্দোলন ও সংগ্রামকে সফল করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম লংমার্চের তুলনায় পরবর্তী লংমার্চগুলো অনেক বেশি সফল হয়েছে। বিশেষ করে সর্বশেষ খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ এই লংমার্চকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাদের কণ্ঠে বারবার একদফা আন্দোলনের দাবি শোনা গেছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের কার্যক্রমে জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামীতে সিলেটে লংমার্চ এবং পরবর্তীতে ঢাকায় একটি বিভাগীয় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সারাদেশ থেকে লংমার্চ করে ঢাকায় যাওয়ার একটি মহাপরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।

সরকার যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তবে তারা একদফা অর্থাৎ সরকার পতনের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “সংসদে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া উচিত নয়।

রাশেদ প্রধান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেও তারা গণভোট আগে আয়োজনের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে তার মতে, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচন আয়োজনের আগে অবশ্যই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।

মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে তিনি সাতক্ষীরাবাসীকে আগামী দিনের আন্দোলন ও সংগ্রামের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।