গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও সেই রায় বাস্তবায়ন না করার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচনের পূর্বে ১১ দলীয় জোটসহ মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দলকে এই মর্মে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না কেন? এই বিষয়ে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “এই গাদ্দারি আমরা বরদাশত করব না।”

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী গোলচত্বরে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, গণভোটের রায় কার্যকর হলে দেশের সাধারণ মানুষকে ছয় দফার দীর্ঘ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে। তার মতে, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই বাকি ছয়টি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ভালোয় ভালোয় গণভোটের রায় মেনে নিন। অন্যথায় কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়, এ দেশের মানুষ তা জানে।”

আন্দোলনের প্রতি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঢাকা থেকে বাগেরহাটের পথে আসার সময় সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ দাঁড়িয়ে লংমার্চের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছেন। যারা এই কর্মসূচিতে সমবেত হয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আন্দোলনের সফলতা কামনা করছেন, তাদের সকলকে তিনি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বাগেরহাটের সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দাবি মূলত জনতার দাবি। তিনি প্রশ্ন করেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কি তাঁর সঙ্গে থাকবেন? তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সর্বশক্তি দিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “এ দাবি আদায় হবেই, ইনশাআল্লাহ।”

ভবিষ্যতে আন্দোলনের গতি আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সামনে এক দফা, দুই দফা কিংবা তিন দফা— যত দফাই আসুক, সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ২০২৪ সালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে যে গুলি, বন্দুক ও কামান দিয়ে তাদের দমানো সম্ভব নয়। দেশের মানুষ এখন মুক্তির পথ চিনে ফেলেছে এবং সেই পথ ধরেই আন্দোলন সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “নব্য ফ্যাসিবাদ থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করতে প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে লড়াই করা হবে।”

এই পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ রেজাউল করিম, এনসিপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল, জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন, অ্যাডভোকেট মোস্তাইন বিল্লাহ, মাওলানা রুহুল আমিন খান এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আহমেদ আব্দুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য যে, সকাল থেকেই কাটাখালী গোলচত্বর এলাকায় লংমার্চকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দুই পাশে নারী-পুরুষ ও শিশুদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। কাটাখালীতে পথসভা শেষ করার পর লংমার্চটি খুলনার অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।