চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজপথে নেমেছে ১১ দলীয় ঐক্য। দেশের সাধারণ মানুষকে শান্তিতে রাখতে হলে এসব অপকর্মে লিপ্ত ব্যক্তিদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুরের ভাঙ্গা বিশ্বরোড পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় যাত্রাবিরতিকালে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন করা; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।” তিনি সতর্ক করে জানান, এসব দাবি পূরণ না হলে আগামীতে রাজপথে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের কারণে জনজীবনে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমিরের মতে, দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখতে হলে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দখলবাজদের রাজপথ ও সমাজ থেকে হঠাতে হবে। তিনি আরও বলেন, “যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়, তাদের কঠোর হাতে দমন করা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”

এর আগে ঢাকা থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি বিশাল গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। মাওয়া হয়ে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের সীমান্তবর্তী নাওডোবা এলাকা অতিক্রম করে বহরটি ফরিদপুরের ভাঙার দিকে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভাঙ্গা গোলচত্বর অতিক্রম করে পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান।

লংমার্চের বহর নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ভাঙ্গায় পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় নেতাকর্মীরা হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষসহ শতশত নেতাকর্মী বিশ্বরোড ও পৌরসভা এলাকায় সমবেত হতে থাকেন। তারা সড়কের দুই পাশে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানান।

লংমার্চে জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা জামায়াত আমিরের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ভাঙ্গায় বহরটিকে স্বাগত জানান ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদরউদ্দিন, জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সালাউদ্দিন, জামায়াত নেতা রিপন সরকার, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সরোয়ার হোসাইন, পৌর জামায়াতের আমির ডা. মো. এনায়েত হোসেন, জামায়াত নেতা মফিজুল ইসলাম মাসুদ, মো. হাফিজুল ইসলামসহ সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

যাত্রাবিরতিকালীন এই সমাবেশে জামায়াত ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল।