দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আরেকটি বিপ্লব এখন দরজায় টোকা দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি ইতিহাস এবং অতীত স্বৈরাচারের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এক সমাবেশের সামনে এই কথাগুলো বলেন তিনি। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে লংমার্চ শুরুর আগে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

সম্বোধনের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের অন্যতম দফা হচ্ছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এটা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি ছয় দফা জন্ম নিয়েছে। যদি একটা দফা বাস্তবায়ন হতো, তাহলে বাকি ছয় দফাও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না।’

বিএনপির কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিএনপি জাতিকে হতাশ করেছে। কথা দিয়ে কথা ভঙ্গ করেছে। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে। আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম, ভালোয় ভালোয় এখান থেকে ফিরে আসুন। গণরায় বাস্তবায়ন করুন। না হলে আপনাদের উচ্চ মূল্য দিতে হবে। সেদিকেই সম্ভবত বিএনপি এগোচ্ছে।’

বিএনপির রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের কপালে যখন দুর্ভোগ লেখা থাকে, তখন ওই দুর্ভোগের ঠিকানায় না পৌঁছে তার শান্তি হয় না। বিএনপি ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। অতীত স্বৈরাচারের ইতিহাস থেকেও শিক্ষা নেয়নি। এর সঙ্গে প্রতিদিন নতুন নতুন জঞ্জাল জাতির জন্য সৃষ্টি করছে তারা।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে চার দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফিরেছেন। কী জন্য গিয়েছিলেন, কী করে এসেছেন, জাতির সামনে তাকে এটা খোলাসা করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়। কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না। অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, পরিণতি তারা এখন ভোগ করছে।’

সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো মেনে নেন, সুস্থ ধারায় ফিরে আসুন। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ বসার আগেই নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে ঘোষণা দিন, আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করব। যদি এই ঘোষণা দেন, তাহলে পরবর্তী আর কোনো কর্মসূচি আপাতত বিরোধী দলের নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। যদি তা না দেন, তাহলে জনগণের এই দাবি আমরা আদায় করে ছাড়ব।’

দেশের যুবসমাজের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যুবসমাজকে কারও ছলনায় কান না দেওয়ার জন্য বলব। কারণ তোমরা রাজপথে লড়াই করে জাতিকে সাময়িক এই মুক্তি এনে দিয়েছ। এই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আরেকবার লড়াই করতে হবে। দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আমাদের দরজায় টোকা দিচ্ছে।’

উল্লেখ্য যে, ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে এই লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করা, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বিলোপ এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা।