জনগণের দাবি আদায়ের লড়াইয়ে অবিচল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবিগুলো পূরণ না হবে, ততক্ষণ তারা ঘরে ফিরবেন না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজিত এক লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা সবাই জানেন, আমরা কেন রাস্তায় নেমেছি। এ দাবি আমাদের দলের নয়, এ দাবি জনগণের। জনগণের দাবি নিয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমরা রাস্তায় নামতে চাইনি। কিন্তু সরকার আপনাদের অপমানিত করেছে। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। এই একটি দাবি বাস্তবায়ন হলে বাকি ছয় দফাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যাবে।”

কালীগঞ্জে লংমার্চের এই কর্মসূচিতে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। এরপর কালীগঞ্জের প্রধান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গণভোট বাস্তবায়ন হলে দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অন্যায় থাকবে না। সরকার দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি আদায়ে প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

১১ দলীয় ঐক্যজোটের এই লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কালীগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জোটের নেতারা সরকারের প্রতি দ্রুত দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

জোটের সাত দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। এই দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে যাত্রা করে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

লংমার্চের অগ্রভাগে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম কালীগঞ্জের প্রধান বাসস্ট্যান্ডে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার বক্তব্যে হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন।

একই সভায় জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ দেশ পরিচালনায় ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “চাটুকারদের কথায় নয়, ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করুন। আমরা সহযোগিতা করব।”

কালীগঞ্জে লংমার্চ পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহের এই জনপদে জোটের কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পরবর্তী কর্মসূচি ও আন্দোলনের বিষয়ে জোটের নেতারা তাদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।