সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সাত দফা দাবির সমাধান না হলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জনগণ সরকারকে 'লাল কার্ড' দেখাবে।

সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলের আয়োজিত লংমার্চের অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় যশোরের মুড়লী মোড়ে এক পথসভায় এই হুঁশিয়ারিগুলো দেওয়া হয়। মূলত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই মাসের গণহত্যার বিচার, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারসংকট নিরসন এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাতটি বিশেষ দাবির ভিত্তিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

যশোরে আয়োজিত ওই পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে আজকের সাত দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় রূপান্তরিত হবে। সরকারকে আমরা সেইটুকু সময় দিতে চাই। আমরা সংসদে বসেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্নসহ সাত দফা দাবির সমাধান করতে চাই। কিন্তু তা না হলে আবারও দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণবিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না।’

লংমার্চের এই পথসভার জন্য দুপুর থেকেই মুড়লী মোড়ে ১১-দলীয় জোটের কর্মী ও সমর্থকেরা জড়ো হতে শুরু করেন। উপস্থিতির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় অর্ধলক্ষে। উল্লেখ্য, যশোরের আগে মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও খুলনায় একই ধরনের পথসভা করেছে ১১ দল।

প্রতিটি পথসভায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিকে বিএনপির জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘আজকের জনতার এই ঢল ও পথে পথে মানুষের স্লোগান বিএনপিকে একটা বার্তা দিচ্ছে। নির্বাচনের আট মাস পর এখনো আপনাদের ভাববার সময় আছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা জাতিকে যে ওয়াদা করেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছিলেন এবং ভোট দিয়েছেন। সারা বছর প্রচার করার পর এখন নিজের ভোটকেই অস্বীকার করছেন।’

সরকারের বিভিন্ন কার্ড ভিত্তিক কর্মসূচির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘আপনারা কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নানান কার্ড ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী মনে করছেন। কিন্তু জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড। প্রয়োজনে সেই লাল কার্ড জনগণ আপনাদের দেখাবে।’

সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখনো সময় আছে। আগামী ৯ তারিখের সংসদ অধিবেশনে নিজের ভুল স্বীকার করে একদলীয় সংবিধান সংশোধনীর এই বক্সার স্টাইল থেকে ফিরে আসুন। সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করুন। রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত তৈরি না করে সংসদেই এর নিষ্পত্তি করুন।’

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

যশোরের লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করে ১১ দলের নেতারা ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলচত্বরে পথসভা করেন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার গণভোটের গণরায় মেনে নিলে আরকোনো লংমার্চ হবে না। কিন্তু না মানলে সাত দফা এক দফায় পরিবর্তিত হয়ে ঢাকামুখী লংমার্চ শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণভোট অবৈধ হলে বিএনপির সরকারও অবৈধ, আমরা বিরোধী দলও অবৈধ। তারা গণভোটের গণরায়কে মেনে না নিয়ে দেশের মানুষের সাথে মুনাফেকি করেছে। এই মুনাফেকির ফলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।’

উক্ত পথসভায় লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদ, এনসিপি নেতা হান্নান মাসুদ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য প্রদান করেন।

রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা লংমার্চ নিয়ে কুষ্টিয়ার অভিমুখে রওনা হন।