জনগণের রায়কে উপেক্ষা করলে সরকারকে কেবল অপমানিতই হতে হবে না, বরং এর জন্য চরম মূল্যও দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, সরকার যদি জনগণের রায় ও ভোটের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে, তবেই তারা সম্মানিত হতে পারবে।

আজ শনিবার সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১টি রাজনৈতিক দলের আয়োজিত এক লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে অনুষ্ঠিত এই সভায় শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই মাসের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারের সংকট দূর করা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ মোট সাত দফা দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলের এই তৃতীয় লংমার্চের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তাঁরা সাধারণ মানুষের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তিনি আরও বলেন, “তাঁদের মূল দাবি, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। এই দাবি বাস্তবায়ন হলে বাকি ছয় দফাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। ইনশা আল্লাহ জনগণের এই দাবি আদায় হবে। দাবি আদায় করেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন।”

সংক্ষিপ্ত এই পথসভা শেষ হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দলের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত লংমার্চের বহর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু অতিক্রম করে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

এর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় আয়োজিত অন্য একটি পথসভায় শফিকুর রহমান পানি ঘোলা না করে জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং তাঁদের রায় মেনে নেওয়ার কথা বলেন। জনগণের রায় শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আজ শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে পোস্তগোলা সেতু সংলগ্ন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন শফিকুর রহমান।

এই লংমার্চের গাড়িবহর আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে যাত্রা শুরু করে। বহরটি হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা এবং রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে অগ্রসর হবে। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথে মোট ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে এবং পুরো পথে একাধিক পথসভার আয়োজন করা হয়েছে।