রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারের বিরুদ্ধে ১১-দলীয় ঐক্যের আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।"
শফিকুর রহমান আরও জানান, এই দাবিসমূহ ৯ বা ১০ দফায় পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে জাতির প্রয়োজনে এটি দ্রুত এক দফায় রূপান্তরিত হতে পারে। তিনি সরকারকে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিতে এবং জনগণের দাবি মেনে নিতে আহ্বান জানান। দাবি না মানলে কোনো চোখরাঙানি কাজে আসবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের সাফল্যে কিছু ব্যক্তির মধ্যে আত্মপ্রসাদ দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, তারা যেন হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নেন। তিনি স্পষ্ট করেন, বিরোধী দল কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামে। "আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। আজকে ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ।"
জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে দেশব্যাপী জোয়ার তৈরি হয়েছে, যা সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন কথা বলতে উদ্ধৃত করেছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, বিরোধী দলের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ থাকবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও একই বিষয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও লড়াই চলবে।
উদ্বোধনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন নেতা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) বক্তব্য দেন।
৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ১১ দল ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ। রংপুরের কর্মসূচিতে দুর্নীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়েছে।
১১-দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ হবে। লংমার্চ ও সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া এবং জুলাই সনদ মেনে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপে রাখাই মূল লক্ষ্য। লংমার্চ শেষে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জোটের সূত্র জানিয়েছে, চারটি নির্ধারিত লংমার্চ শেষে আরও কিছু বিভাগীয় শহরে লংমার্চ হতে পারে।