সারা দেশে নিরাপদ খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গত অক্টোবর মাসে দেশব্যাপী মোট ৩৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে এই কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অপরাধের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মোট ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে শুধুমাত্র ঢাকা মহানগর এলাকাতেই ১৭টি অভিযান চালানো হয়। রাজধানীর এসব অভিযানে মোট ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১১টি মামলা করা হয়েছে।

ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত এসব অভিযানে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। যেমন—খাদ্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসনদ না থাকা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করা এবং অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করা। এছাড়া রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ করার মতো ঘটনাও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ছিল না এবং পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরের বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও ১৭টি অভিযান চালানো হয়েছে। ঢাকার বাইরের এসব অভিযানে মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জেলা পর্যায়ের এসব অভিযানে রান্নাঘরে তেলাপোকার বিচরণ, পোড়া তেলের ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ও ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার এবং পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকার মতো অপরাধ পাওয়া গেছে। এছাড়া নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের প্রমাণও মিলেছে অভিযানে।

অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি খাদ্য স্থাপনাগুলোর নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। অক্টোবর মাসে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১ হাজার ১২৭টি খাদ্য স্থাপনা মনিটরিং করা হয়েছে। এছাড়া রপ্তানিযোগ্য চারটি পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ প্রদান করা হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ প্রচারণা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিও প্রকাশ করে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট সবাই এগিয়ে এলে এ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত হবে।”