সাতক্ষীরার আশাশুনি থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি আশাশুনি থানাকে দালাল ও হয়রানিমুক্ত করার পাশাপাশি অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং অনলাইন জুয়া নির্মূল করার বিষয়টিকে তিনি তার অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় আশাশুনি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওসি শাহিদুর রহমান এসব কথা বলেন।

সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আমি এই থানায় কোনো শাসক হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে এসেছি। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আশাশুনি থানাকে দালাল ও হয়রানিমুক্ত করে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।”

ওসি শাহিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, আশাশুনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ নির্মূল করা তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশি সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।

পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে কথা বলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’—এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে চান তিনি। অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষ যেন কোনো বাধা ছাড়াই পুলিশের সহযোগিতা পান, তা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে অপরাধ দমনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রভাব বা পরিচয় অপরাধীর রক্ষাকবচ হতে পারবে না।

সমাজের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ওসি বলেন, সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমেই সমাজের অসংগতি, অপরাধ ও মানুষের দুর্ভোগের চিত্র ফুটে ওঠে। পুলিশের কাজে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ভুল সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়।

পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করা যাবে।

মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ওসি বলেন, পুলিশ একা সব অপরাধ নির্মূল করতে পারে না; এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, পেশাগত সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় থাকলে এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সঞ্জয় কুমার দাস। অনুষ্ঠানে আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস কে হাসান, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব, সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেনসহ প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকেরা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক সমস্যা, সামাজিক অপরাধ ও জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরেন এবং এসব বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।