বগুড়ায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এই পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মোট ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, তবে তাদের কেউই সফল হননি। ফলাফল প্রকাশের পর এই চরম ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নিকট থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে জেলা প্রশাসন।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, যেসব প্রতিষ্ঠানে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন সেগুলো হলো— গাবতলীর তাসলিম উদ্দিন তারাফদার কলেজ ও বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ, ধুনটের গোসাইবাড়ী উইমেন্স কলেজ এবং কাহালুর দুর্গাপুর আইডিয়াল উইমেন্স কলেজ ও আল্লামের তাকিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ।

বগুড়া জেলার সামগ্রিক ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ২৬ হাজার ৭৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১৪ হাজার ৩৪১ জন। ফলে জেলায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশে। এছাড়া জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী।

তবে জেলার মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের গৌরব ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো বগুড়া মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিএএফ শাহীন কলেজ। উল্লেখ্য, মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যদিও বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যার দিক থেকে জেলার শীর্ষস্থানে রয়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। এই কলেজের ১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন, যার ফলে পাসের হার হয়েছে ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এখান থেকে মোট ৭৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রয়েছেন ৬০০ জন।

অন্যদিকে, বগুড়া সরকারি কলেজ থেকে ৭৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯৪ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১৫৭ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন। সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯৭৮ জন, পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন।

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫৭ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন। বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২০ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন।

বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৬ জন পাস করেছেন, পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন। বগুড়া আরডিএ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৭ জন পাস করেছেন এবং ১৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

অন্যদিকে, এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৬ জন, তবে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার বলেন, “পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি বলে তারা খবর পেয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের খোঁজ নিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”