২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রংপুর জেলা। বোর্ডের সেরা ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় রংপুরের ১২টি প্রতিষ্ঠান স্থান করে নিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দিনাজপুর জেলা, যার ১১টি প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা, যাদের masing-masing ছয়টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকায় জায়গা পেয়েছে।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন রংপুর বিভাগের আটটি জেলার মোট ৬৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে।

এ বছর এই বোর্ডের মোট ২ হাজার ৯৫৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। লিঙ্গভিত্তিক হিসেবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৮৩ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৫৭০ জন। উল্লেখ্য, ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে, অন্যদিকে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ভিত্তিতে শীর্ষ ৫০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রংপুরের ১২টি, দিনাজপুরের ১১টি, নীলফামারী ও লালমনিরহাটের ছয়টি করে, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের পাঁচটি করে, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি এবং পঞ্চগড়ের দুটি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে।

রংপুরের শীর্ষ ১২টি প্রতিষ্ঠানের তথ্যে দেখা যায়, রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ১ হাজার ২৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ২০৭ জন পাস করেছেন এবং ৪২৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৯৫৬ জনের মধ্যে ৯৪৯ জন পাস করে ৩১০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭১৮ জনের মধ্যে ৬৯৩ জন পাস করেছেন এবং ১২২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কারমাইকেল কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৬ জনের মধ্যে ৮৮২ জন পাস করেছেন এবং ১১৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

দি মিলিনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২৯ জনের মধ্যে ১২৮ জন পাস করে ৬১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। রংপুর ক্যাডেট কলেজের ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন এবং প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ থেকে ৯৯৬ জনের মধ্যে ৭৬১ জন পাস করে ৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। রংপুর সরকারি সিটি কলেজ থেকে ৭২২ জনের মধ্যে ৫৩৮ জন পাস করে ২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৮৮ জনের মধ্যে ৪৪৫ জন পাস করে ২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কাউনিয়া কলেজ থেকে ৫৩১ জনের মধ্যে ৩৩৫ জন পাস করে ১১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বদরগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে ৩৫৪ জনের মধ্যে ১৭৫ জন পাস করে ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫৯২ জনের মধ্যে ৫০০ জন পাস করে পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

দিনাজপুরের সেরা ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে ৮০৪ জনের মধ্যে ৭৪৯ জন পাস করে ২৭৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজ থেকে ১ হাজার ১৬০ জনের মধ্যে ৮৬০ জন পাস করে ৩৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। হলিল্যান্ড কলেজ থেকে ৩০৮ জনের মধ্যে ২৯২ জন পাস করে ৩৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৮৪৯ জনের মধ্যে ৬৯৭ জন পাস করে ২৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

বীরগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ৭০৭ জনের মধ্যে ৪৩০ জন পাস করে ২০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কাহারোল মহিলা কলেজ থেকে ১২৮ জনের মধ্যে ৬০ জন পাস করে নয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে ৫৫৪ জনের মধ্যে ২৪৪ জন পাস করে সাতজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ঝাড়বাড়ী কলেজ থেকে ২৩৬ জনের মধ্যে ৯৮ জন পাস করে ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কাহারোল সরকারি কলেজ থেকে ৫৩৪ জনের মধ্যে ২০৯ জন পাস করে ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৯৮ জনের মধ্যে ২৯২ জন পাস করে পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং আমিনা বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১১০ জনের মধ্যে ১০৭ জন পাস করে পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

নীলফামারীর সেরা ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ৩২৮ জনের মধ্যে ৩২৬ জন পাস করে ২৫৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫১৬ জনের মধ্যে ৫১২ জন পাস করে ১৬৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে ৮৫৭ জনের মধ্যে ৬২৪ জন পাস করে ৫৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সৈয়দপুর সরকারি কলেজ থেকে ৫৬০ জনের মধ্যে ৫০৬ জন পাস করে ৩০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪০১ জনের মধ্যে ৩৯৭ জন পাস করে ২১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৬৬১ জনের মধ্যে ৩৮৩ জন পাস করে ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

লালমনিরহাটের সেরা ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪৯ জনের মধ্যে ২৪৩ জন পাস করে ২৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৫১৪ জনের মধ্যে ৩২৩ জন পাস করে ২২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। হাতীবান্ধার সরকারি আলিমুদ্দিন কলেজ থেকে ৬৭৯ জনের মধ্যে ৩৮০ জন পাস করে ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পাটগ্রামের বাউরা পূনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজ থেকে ২৭১ জনের মধ্যে ১৪৮ জন পাস করে আটজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পাটগ্রামের সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজ থেকে ৩০৯ জনের মধ্যে ১৯৮ জন পাস করে সাতজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং হাতীবান্ধার দইখাওয়া আদর্শ কলেজ থেকে ৩০৫ জনের মধ্যে ১৭৬ জন পাস করে সাতজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

কুড়িগ্রামের সেরা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ৬৯০ জনের মধ্যে ৫৭৯ জন পাস করে ৪১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৮৬০ জনের মধ্যে ৫৫২ জন পাস করে ২০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ থেকে ৫৬০ জনের মধ্যে ৩৯৫ জন পাস করে ১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। উলিপুর সরকারি কলেজ থেকে ৫৭১ জনের মধ্যে ৩৩৫ জন পাস করে ১২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৩৪ জনের মধ্যে ১৬৮ জন পাস করে ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

গাইবান্ধার সেরা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে ৮৩৪ জনের মধ্যে ৬৪৭ জন পাস করে ৭৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে ৫৮৫ জনের মধ্যে ৪৭৪ জন পাস করে ৩৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ সরকারি কলেজ থেকে ৫৫২ জনের মধ্যে ৩৫৭ জন পাস করে ১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সুন্দরগঞ্জের ধুবনী কঞ্চিবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩২৪ জনের মধ্যে ২৬৫ জন পাস করে নয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এছাড়া গাইবান্ধা সরকারি কলেজের আরও একটি হিসাব রয়েছে যেখানে ৪৬২ জনের মধ্যে ৩২৯ জন পাস করে ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন; তবে এই পরিসংখ্যানটি যাচাই করা প্রয়োজন।

ঠাকুরগাঁওয়ের সেরা তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে ৭৬৩ জনের মধ্যে ৬১৭ জন পাস করে ৯৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ৮২৯ জনের মধ্যে ৬১৬ জন পাস করে ৪২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং বালিয়াডাঙ্গীর সমির উদ্দিন স্মৃতি কলেজ থেকে ৩৮৫ জনের মধ্যে ২০১ জন পাস করে আটজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

পঞ্চগড়ের সেরা দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৭৫৭ জনের মধ্যে ৪৯৩ জন পাস করে ২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ থেকে ৪৭১ জনের মধ্যে ২৬৯ জন পাস করে ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে। এই বিভাগে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে মেয়েদের পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং ছেলেদের পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ।