ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। বোর্ডের ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। তবে এর বিপরীতে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এ বছর এই বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশে।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শূন্য পাসের এই তালিকায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থান করে নিয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হালুয়াঘাট উপজেলার বাঘাইতলা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, ঈশ্বরগঞ্জের কোনাপাড়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চরজিথর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দাইলের বরিল্লা কে.এ. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও অ্যাডভোকেট আবদুল হাই কলেজ, ত্রিশালের আউলিয়ানগর কলেজ এবং তারাকান্দার এইচ.এ. ডিজিটাল কলেজ।
জামালপুর জেলা থেকে এই তালিকায় এসেছে ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর কুমারিয়া নাছুবা হাকিম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, মাদারগঞ্জের নব্যচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মেলান্দহের এস.এম. শিখা মোখলেছুর রহমান কলেজ।
নেত্রকোনা জেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, পূর্বধলার খালিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, অ্যাম্বিশন মডেল কলেজ ও জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ, কমলাকান্দার কমলাকান্দা মহিলা কলেজ এবং নেত্রকোনা সদরের ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ।
অন্যদিকে, শেরপুর জেলা থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলার আলহাজ এস.এম.এ. ওয়ারেজ নাঈম মডেল কলেজ এবং শেরপুর সদরের মোনমথ দে কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও মাত্র একজন বা দুজন, আবার কোথাও পাঁচজন কিংবা ২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।
এর বিপরীতে শতভাগ পাসের তালিকায় স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (কেবি কলেজ)। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৭০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন এবং সবাই পাস করেছেন। তাদের মধ্যে ৩০৯ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
এছাড়া ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছেন। ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ৪৩ জন, ময়মনসিংহ সিটি কলেজের সাতজন এবং জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৯ জন পরীক্ষার্থীও শতভাগ পাসের তালিকায় রয়েছেন।
বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন। এদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৪ হাজার ৩১৯ জন। অর্থাৎ, পাস ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যার ব্যবধান খুবই সামান্য।
এ বছর মোট ২ হাজার ১৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ১১৯ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ১৮ জন। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ১৫ হাজার ৬৪৭ জন, যার পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৭০৭ জন, তাঁদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে ময়মনসিংহ জেলা সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বিপরীতে শেরপুরে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, নেত্রকোনায় ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং জামালপুরে ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ বলেন, “ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল সন্তোষজনক নয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”