২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জামালপুরের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করুণ চিত্র সামনে এসেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট ২২ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই উদ্বেগজনক তথ্যটি জানা গেছে।
শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা হাকিম বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তবে তাদের কেউই পাস করতে পারেননি। একইভাবে মেলান্দহ উপজেলার এস এম শিখা মুখলেছুর রহমান কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীর কেউই সফল হতে পারেননি।
অন্যদিকে, মাদারগঞ্জ উপজেলার নব্বচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন এবং ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি।
চলতি বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১১৩টি কেন্দ্রে ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল অনুযায়ী, মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের হার অর্জন করেছে। বিপরীতে, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি।
নব্বচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এই ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। সেখানে কর্মরত শিক্ষকেরা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন। এ কারণে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। গত বছরও প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ ছিল, তবে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।” তিনি আরও জানান যে, আগামী বছর ফলাফলের উন্নতি করতে তারা চেষ্টা করবেন।
এদিকে, গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, যার ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য—বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”