বাংলা নাটকের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভিউ বা দর্শক সংখ্যার রেকর্ড যার দখলে, সেই অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি কেবল পর্দায় নয়, বরং পড়াশোনাতেও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। অভিনয় জীবনের অনন্য অর্জনের পাশাপাশি তিনি এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন হিমি। এরপর দুই বছর পর তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দেন। তবে এই সময়েই তিনি নিয়মিত অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে হিমি জানান, এসএসসি পরীক্ষার সময় তিনি ‘মোহর আলী’ নামক একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

সেই অভিজ্ঞতার কথা ভাগাভাগি করে হিমি বলেন, ‘আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি শুটিংয়ের মাঝে। পরীক্ষা শেষে এসে শুটিং করতাম। কারণ, ধারাবাহিক নাটকের শিডিউল সবার একসঙ্গে থাকে যে কারণে শুটিং বাদ দিতে পারতাম না। তবে আমি এগুলো এনজয় করেছিল। কারণ, আগেই আমার পড়াশোনা কম্পিলিট ছিল।’

হিমি আরও জানান, সেই সময়ে তাঁর বয়স অনেক কম ছিল এবং অভিনয়ের চাপও এখনকার মতো ছিল না। ফলে শুটিং সেটেই তিনি পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারতেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এমন হতো বেশির ভাগ সময় শুটিংয়ে পরে বই নিয়ে বসে থাকতাম। সবাই বলত আমি পড়ুয়া। দেখা যেত শুটিংয়েই আমার পড়াশোনা শেষ হয়ে যেত। যে কারণে শুটিং কখনোই আমার পড়াশোনার জন্য সমস্যা হয়নি।’

একই রকম অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর এইচএসসি পরীক্ষার সময়েও। তখনো তিনি নিয়মিত শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তবে পরীক্ষা দিয়ে এসে শুটিং করার প্রয়োজন পড়েনি। নিজের মেধার বিষয়ে কথা বলে হিমি বলেন, ‘আমি মেধাবী ছিলাম কি না জানি না। তবে প্রচুর পড়তাম। সময় পেলেই বই নিয়ে বসতাম। আমার মধ্যে বিশেষ একটা কারণে মনে হতো পরীক্ষা ভালো করতে হবে।’

পড়াশোনায় ভালো করার পেছনে এই বিশেষ কারণটি কী, তা জানতে চাইলে অভিনেত্রী জানান, তাঁর পরিবারের কেউ অভিনয়ের সাথে যুক্ত নন। তিনিই প্রথম এই পেশায় এসেছেন, যা তাঁর জন্য ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। হিমি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কেউ অভিনয় করেন না। সেখানে আমি একমাত্র অভিনয়ে আসি। এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমার সব সময় এটা মাথায় থাকত কেউ যেন বলতে না পারে, “পড়াশোনা ভালো হচ্ছে না।”আমিও চাইতাম মা–বাবা যেন আমার কোনো কিছুতে হতাশ না হন। এমন না তাঁরা কোনো কিছুতেই চাপ দিতেন। তাঁরা শুধু এটাই বলতেন, আমি যেন ভালো করি। এটা নিয়ে যেন কেউ কিছু বলতে না পারেন।’

পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়েও তিনি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। মহিন খান পরিচালিত ‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’ নাটকে নিলয় আলমগীরের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি বাংলা নাটকের ইতিহাসে সর্বাধিক ভিউ পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

নিজের ফলাফল সম্পর্কে হিমি বলেন, ‘আমি এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছি। এর চেয়ে অনেক কম পেলেও মা–বাবা কিছু বলতেন না। কিন্তু আমি নিজের পছন্দ মতো অভিনয় করার জন্য কিছুটা চাপ নিয়ে পড়াশোনা করতাম। আমি চাইতাম সব জায়গাতেই ভালো হতে হবে। সেই চেষ্টা এখনো করি। আসলে পড়াশোনার করলে অবশ্যই ভালো ফলাফল হবে।’

পড়াশোনা ও মা-বাবার সম্পর্ক নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে কখনোই পড়াশোনার জন্য মায়ের বকা শুনতে হয়নি। বরং আমি আব্বু-আম্মুকে খুশি রাখতাম। তবে তাঁদের একটাই কথা ছিল, কখনোই কারও কিছু দেখে লেখা যাবে না। আমি যেটা পারব, সেটাই লিখব। এ কথাগুলো আমি মনে রাখতাম। আসলে প্রস্তুতিটাই ভালো থাকলে পরীক্ষা ভালো হয়, সেটা তাঁদের বলতাম।’

বর্তমানে হিমিকে দেখা যাচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘প্রথম প্রেমের গল্প’– এ। ‘স্মৃতির আল্পনা’ ধারাবাহিকের প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর তিনি আবারও ধারাবাহিকে ফিরেছেন। তানভীর তন্ময় পরিচালিত এই কাজটির বিষয়ে হিমি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন পরে ধারাবাহিকে ফিরলাম। এতটা প্রশংসা পাব ভাবিনি। আসলে আমার কমেডি নাটকের কিছু দর্শক হয়তো পছন্দ করছেন না। কিন্তু বেশির ভাগ দর্শকই এটা পছন্দ করেছেন। আমরা এখন গল্পভিত্তিক ভালো কাজগুলো করতে চাই।’