যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় বড় ধরনের অকৃতকার্যতার চিত্র সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার ৫৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশে। এর পাশাপাশি ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছর ৩ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণেই এমন ফলাফল এসেছে। তবে বোর্ডের কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে 'ফল বিপর্যয়' হিসেবে আখ্যা দিতে রাজি নন। এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুল মতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ফলাফল বিপর্যয় নয়; এটি সঠিক মূল্যায়নের প্রতিফলন। আমরা শিক্ষার গুণগত মান বা কোয়ালিটি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছি।’
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার মোট ৫৭০টি কলেজ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন, যার ফলে পাসের হার দাঁড়ায় ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত বছর পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এবার পাসের হার প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।
ফলাফলের এই মন্দাভাবের কারণ বিশ্লেষণ করে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আকিজ কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান জানান, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থাকার এক ধরনের অসুস্থ প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষার মধ্যবর্তী প্রায় তিন মাস সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ কমে যায়, ফলে পড়াশোনায় ঢিলেমি চলে আসে। তাঁর মতে, এই সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারলে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে, যশোর সদর উপজেলার আল হেরা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার ৪১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁদের অর্ধেকের বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন এবং একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পাননি। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে নম্বর কম পাওয়ায় বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তিনি আরও জানান, কলেজটি মফস্সলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হন না বললেই চলে। তবে গত বছরের তুলনায় পাসের হার কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁরা এটিকে ফল বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করতে চান না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোর বোর্ডে এবার শতভাগ পাস করা এবং শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছর মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী পাস করেছেন, যা গত বছর ছিল পাঁচটি। একইভাবে, কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬টিতে নেমেছে, যা গত বছর ছিল ২০টি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষা করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে যারা ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, তারা আগামীকাল রোববার থেকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।