বান্দরবান জেলার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবারও শতভাগ পাসের গৌরব ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়ায় অবস্থিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট ৬০ জন শিক্ষার্থীর সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যার বিচারে জেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে এই কলেজটি।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে এই তথ্য সামনে আসে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এ বছর বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক—এই তিন বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। এই বিভাগের পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং নয়জন ‘এ’ গ্রেড অর্জন করেছেন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন জিপিএ-৫ এবং আটজন ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন।
অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তারা সবাই পাস করেছেন। এই বিভাগে আটজন জিপিএ-৫, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড এবং একজন ‘এ-মাইনাস’ পেয়েছেন।
এর বিপরীতে লামা উপজেলার অন্যান্য কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সরকারি মাতামুহুরী কলেজ থেকে মোট ৭৫৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছেন মাত্র ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন পাঁচজন। প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৮২ শতাংশে।
চাম্বি উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ছয়জন, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার হয়েছে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন পাস করেছেন, যা পাসের হার হিসেবে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এছাড়া লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ছয়জন; প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তারা কলেজের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছেন। শিক্ষকেরা নিয়মিত তদারকি করেছেন এবং ভালো ফলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এই সাফল্যের জন্য তারা শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ বলেন, “সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ, সময়মতো ফলাফল প্রকাশ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ এ সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রেখেছে।”
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “জিপিএ-৫-এর সংখ্যা ও শতভাগ পাসের হারে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ লামা উপজেলার সুনাম বাড়িয়েছে।” তিনি আরও জানান, মোট পরীক্ষার্থী, জিপিএ-৫-এর সংখ্যা ও পাসের হারের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।