চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত তিন বছর ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার ফলে কলেজটির শিক্ষার মান এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে এই চিত্র সামনে এসেছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ভোলাহাট কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে সেই একমাত্র শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর ফলে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

কলেজটির বিগত কয়েক বছরের ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির দুটি বিভাগ থেকে মোট পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মানবিক বিভাগের চারজনের তিনজনই অকৃতকার্য হন। উল্লেখ্য, সে সময় মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য কলেজটিতে মোট ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন।

এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পাশাপাশি সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফলাফলও অত্যন্ত হতাশাজনক। টানা তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই চরম বিপর্যয় প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে ভোলাহাট কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ফল বিপর্যয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন জানান, “শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া কলেজগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। কেন এমন ফলাফল হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হবে।”