ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় এক নারীর সঙ্গে অশালীন আচরণ, শারীরিক হেনস্তা এবং ধর্ষণের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগে পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মন্ডলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক সাব্বির খানের স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃত নেতা হযরত আলী মন্ডল ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী এবং নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর স্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হযরত আলীকে সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।” এই সিদ্ধান্তটি জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবীর মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম খান রাজু অনুমোদন করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “তার কোনো অপকর্মের দায়ভার দল বহন করবে না এবং যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হল।”
ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওই নারী স্থানীয় পুটিজানা ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য পদপ্রার্থী। সম্প্রতি তার স্বামী একটি মারামারির মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন। সেই সুযোগে তার স্বামীকে জামিনে মুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হযরত আলী ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তিনি ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন, যা বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে, এই ঘটনার কিছু ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল হাসান জানান, থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত হযরত আলী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।