খুলনা নগরের মিস্ত্রিপাড়ায় ছয় থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা আল মামুনের বিরুদ্ধে শিশুটিকে দীর্ঘ সময় ধরে উত্ত্যক্ত করা, মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও দেখানো এবং সর্বশেষ পর্যায়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলের দিকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার কথা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আল মামুনকে ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা নগরের মিস্ত্রিপাড়ার রোকন উদ্দিন সড়কের একটি বাড়িতে ওই শিশুটির যাতায়াত ছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাড়িওয়ালা আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। এমনকি শিশুটিকে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও দেখানোর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটি ওই বাড়িতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনার পরপরই আতঙ্কিত হয়ে শিশুটি দ্রুত নিজের বাড়িতে ফিরে যায় এবং তার মায়ের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। এরপরই পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের অনেক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাকে হেফাজতে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের সংঘর্ষে গড়ায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত আল মামুন একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং তিনি সেনাবাহিনীতে স্টাফ সার্জেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”