স্বামীর জামিন করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে হযরত আলী মন্ডল নামের যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারীর করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফুলবাড়ীয়া থানায় অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত হযরত আলী মন্ডল উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুকের অনুসারী বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নারী ওই একই ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি অতীতে পুটিজানা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার স্বামী দুলাল মিয়া একটি মারামারির মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে দুলাল মিয়া যখন কারাগারে ছিলেন, সেই সুযোগে তাকে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন হযরত আলী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে জাহানারার ঘরে প্রবেশ করেন হযরত আলী। সেখানে তিনি ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে ওই নারী বাধা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী এই বিষয়ে জানান, “আমাকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছিলেন। সম্প্রতি আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হযরত আলী মন্ডলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল হাসান বলেন, “এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”