চট্টগ্রামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন এবং অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার কে-ব্লক এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. মোয়াজ্জেম। তিনি নিজেকে যুবদলের সংগঠক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন মণ্ডল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোয়াজ্জেম অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি। মামলার প্রধান আসামি নূর হোসাইন নূর বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি নগরের ল মার্কেট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় হালিশহরে বাসায় ফেরার পথে নূর হোসাইন নূর (৩৮) ও মোয়াজ্জেম তাকে ডেকে কাছে নেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক ফইল্ল্যাতলী বাজারসংলগ্ন মেডিসিন বাজারের একটি ভবনের ওপরতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মুখ এবং হাত-পা বেঁধে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, মোয়াজ্জেম এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও এক ব্যক্তি সেখানে পাহারায় ছিলেন। সেই সুযোগে নূর হোসাইন নূর ওই কিশোরের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন। এরপর তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং এই ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মামলায় বলা হয়েছে, পরদিন ২৪ আগস্ট রাত ১টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, মুক্তি পাওয়ার পর আসামিরা ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরটিকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। তাদের কথা না মানলে ভিডিওটি তার পরিবার এবং পরিচিতদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরটি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সামাজিক মর্যাদার ভয়ে কাউকে কিছু জানাইনি। কিন্তু এই ভিডিও দিয়ে তারা দিনের পর দিন আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। কখনো টাকা চাইতেন, কখনো ডাকলে যেতে হতো। আবার কখনো অন্য ছেলেদের বিষয়ে তথ্য চাইতেন। পরে শুনেছি, আরও অনেক ছেলের সঙ্গে একই ধরনের অপরাধ করেছেন তারা।”