ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে একটি মহিলা মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তেজনার মাঝে মাদ্রাসার ভেতরে আটকে পড়া বেশ কিছু মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। পুলিশ জানিয়েছে, এই গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত তোফাতুল মহিলা মাদ্রাসায়।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বুধবার রাতে ওই মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এই খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে মাদ্রাসার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেখানে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ শুরু হয়। খবর পাওয়ার পরপরই সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
জানা গেছে, পুলিশ যখন মাদ্রাসার ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করছিল, তখন উত্তেজিত জনতা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে পুলিশের একাধিক দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে নিরাপদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। বুধবারের এই ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করে পলাতক রয়েছেন। এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা চালিয়েছে এবং উদ্ধারকাজে নিয়োজিত পুলিশের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে।
এই স্পর্শকাতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কিংবা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, “এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে।”