সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পৃথক অভিযানে আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রধান আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সাভার মডেল থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজনকে কুমিল্লা এবং অপর দুজনকে মৌলভীবাজার জেলা থেকে ধরা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের একাধিক দল নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন এজাহারভুক্ত আসামি এবং একজন রিমান্ডে থাকা আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে উঠে আসা আসামি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জিৎ, কাশেম ও রাব্বি। জানা গেছে, ঘটনার সময় কাশেম একটি প্রাইভেটকারের যাত্রী ছিলেন এবং জিৎ ও রাব্বি সরাসরি হামলায় অংশ নেন। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে র্যাব-১০ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসামিদের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ বিস্তারিত জানান।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী মদিনা সিটি এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজের বৃদ্ধ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলাম। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা পাশের একটি পোশাক কারখানায় আশ্রয় নিলে দুষ্কৃতকারীরা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে রড, পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে এসআই আলতাফ নিহত হন এবং তার ছেলে গুরুতর আহত হন।
নিহত আলতাফ হোসেনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপনাই গাছপাড়ায়। তিনি পরিবার নিয়ে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় বসবাস করতেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শিউলি পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।