২৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চরম সংকটের মুখে, ঠিক সেই মুহূর্তে ব্যাটিংয়ে নামতে পারলেন না মুমিনুল হক। মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে তিনি মাঠের বাইরেই থেকে যান। দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসেন তাওহিদ হৃদয়। তবে ব্যাটিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলেই তিনি এমন এক শট খেললেন, যা পুরো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শকদের অবাক করে দেয়। দলের এমন নাজুক অবস্থায় হৃদয়ের এই ধরণের খেলার ধরন ছিল রীতিমতো অভাবনীয়।
রোস্টন চেজের বলে এগিয়ে এসে হৃদয় যেভাবে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন, সেটির ব্যাখ্যা করা কঠিন। তৃতীয় দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা নাঈম হাসানের কাছেও এই রহস্যের কোনো উত্তর নেই। তিনি বলেন, “আসলে ওর মনের মধ্যে কী চলছিল তা তো আমি জানি না।”
উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয় ইনিংসের মতো প্রথম ইনিংসেও হৃদয় বোল্ড হয়েছিলেন চালিয়ে খেলতে গিয়েই। তবে প্রথম ইনিংসে যখন তাও স্কোরবোর্ডে রান ছিল, তখন বিষয়টি খুব একটা দৃষ্টিকটু মনে হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর এই বিদায়ের পর বাংলাদেশ মারাত্মক চাপে পড়ে যায় এবং ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়েছিল দল।
তবে দিনের শেষ দিকে নাঈম হাসান ও জাকের আলীর ২৬ রানের একটি অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। দিনের খেলা শেষে এই দুই ব্যাটসম্যানই ১৮ রান করে অপরাজিত আছেন। ৪ উইকেট হাতে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের বর্তমান লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।
দলের এই সংকটময় মুহূর্তে ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে নাঈম হাসান জানান, “আমার চেষ্টা ছিল যে রকম বল আসবে, ওরকমভাবে খেলব। এই উইকেটে আসলে রান করার জন্যই খেলতে হবে। কারণ, বল তো টার্ন করছে, আপনার স্কোর যখন চালু থাকবে, তখন বোলার চাপের মধ্যে থাকবে।”
এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে হঠাৎ ধসের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাঈম বলেন, “(নাজমুল) শান্ত ভাইরা যখন ব্যাটিং করেছে; তখন কিন্তু আন্ডার লাইট খেলা হয়েছে। তখন কিন্তু বল দুই রকম হচ্ছিল। সোজাও যাচ্ছিল, আবার ঘুরছিলও। ওই জায়গায় আমার হয়তো আরেকটু ভালো ব্যাটিং করার দরকার ছিল।”