ফেনীর ছাগলনাইয়ায় গভীর রাতে এক গৃহবধূ ও তাঁর দুই শিশুকন্যাকে জিম্মি করে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ওই পরিবারের স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং মুঠোফোন লুট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় জড়িত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাদের আজ বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শেরপুর জেলার গোজাখরা গ্রামের ফজল হকের ছেলে মো. শাহীন (২৩), একই জেলার খরখড়িয়াকান্দা গ্রামের মো. সোহরাব আলীর ছেলে আতিকুল ইসলাম (২৭) এবং ফেনী সদর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মোমিনুল হকের ছেলে বশির আহমেদ (২৬)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ছাগলনাইয়া পৌরসভার আলাবক্স মজুমদার বাড়ির একটি ভবনের নিচতলায় প্রবেশ করে তিন মুখোশধারী ব্যক্তি। তারা বারান্দার দরজা দিয়ে সরাসরি শয়নকক্ষে ঢুকে গৃহবধূ আয়েশা আক্তারের মুখ চেপে ধরেন। এসময় ডাকাতরা আয়েশা আক্তারের ১২ বছর ও ৮ বছর বয়সী দুই শিশুকন্যাকে মারধর করে। এরপর আয়েশা ও তাঁর দুই মেয়ের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁদের কান, নাক ও গলা থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তার জানান, “চিৎকার করতে চাইলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কিল–ঘুষি মারেন। পরে গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘর তল্লাশি করে দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, ৩০ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন নিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান।”
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, ডাকাতির ঘটনার আগে দিনের বেলায় ওই বাড়ির আশপাশে তিন অপরিচিত ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাফেরা ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশ তিনজনকে আটক করে। পরবর্তীতে থানায় নিয়ে আসা হলে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর দুই শিশুকন্যা তাঁদের শনাক্ত করেন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের বলেন, “গতকাল রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের করা মামলায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সকালে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”