ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে ৩২ জন শিশু ও কিশোরকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করার শর্ত পূরণ করায় তাদের এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। মূলত শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাঠান নগর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর কুতুব উল্লাহ ভূঁইয়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই নির্বাচিত শিশু-কিশোরদের হাতে বাইসাইকেলগুলো তুলে দেওয়া হয়।
মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গোল্ডেন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বিডির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হেলালী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সহসভাপতি ছালেহ আহাম্মদ মজুমদার। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর ডুমুরিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা মুফতি সামছুদ্দোহা নূরী।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও আলোচনায় অংশ নেন আলহাজ্ব মাওলানা কাজী শহীদ উল্লাহ, মাওলানা নুরুল করিম, মাওলানা আবদুল মতিন মজুমদার এবং হাফেজ মাওলানা মো. আরমান। পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তালেব হাজারী সবুজ, মো. সিরাজ উল্লাহ পারভেজ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব মজুমদারসহ অন্যান্যরা।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছোটবেলা থেকেই শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি উৎসাহিত করা এবং তাদের মসজিদমুখী করার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যারা টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের শর্তটি সফলভাবে পূরণ করতে পেরেছে, সেই ৩২ জন শিশু-কিশোরকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
উপহার হিসেবে বাইসাইকেল পেয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ভবিষ্যতে নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়ার পাশাপাশি অন্য বন্ধুদেরও নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় অনুশীলন এবং নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে অত্যন্ত সহায়ক হবে। তাদের মতে, পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নিয়মিত নামাজ পড়ার আগ্রহ বাড়বে এবং এর ফলে মসজিদকেন্দ্রিক সামাজিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির এই অভিনব উদ্যোগটি এলাকায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।