ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় যাত্রী সেজে অটোরিকশায় উঠে চালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের বাংলা বাজার সংলগ্ন সড়কে এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে।

নিহত চালকের নাম আবদুল হক। তিনি ছাগলনাইয়া উপজেলার মাটিয়াগোদা গ্রামের মৃত ওসমান হাওলাদারের সন্তান। নিহতের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। জানা গেছে, তিনি ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের চাঁদগাজী বাজার থেকে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি যাত্রী হিসেবে আবদুল হকের অটোরিকশাটি ভাড়া করে পাঠাননগর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ৯টার দিকে অটোরিকশাটি যখন বাংলা বাজারের পাশের একটি নির্জন রাস্তায় পৌঁছায়, তখন হঠাৎ করেই দুর্বৃত্তরা অস্ত্র নিয়ে চালক আবদুল হকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে দেয়।

হামলাকারীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে দেখা যায়, তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ছাগলনাইয়া থানায় খবর দেন। পুলিশি সহায়তায় ছাগলনাইয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জ্যাকসন বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রাতেই তাকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মহামায়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কাইয়ুম জানান, মাত্র কয়েক মাস আগে বিভিন্ন সমিতি থেকে কিস্তিতে ঋণ নিয়ে আবদুল হক অটোরিকশাটি কিনেছিলেন। এই গাড়ি থেকে আসা আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল তার পুরো পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানরা এখন চরম শোক ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের মুক্তকণ্ঠকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা যাত্রীবেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।”