বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বা ইউসিবি শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে বিশেষ ছাড় পেয়েছে। ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিশেষ ছাড় প্রদান করেছে। গত সোমবার এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিশেষ ছাড়ের ফলে ইউসিবি ব্যাংক এখন উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা থেকে মুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে, একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নতুন করে যেকোনো পরিমাণ শেয়ার ইস্যু করার সুযোগ পেয়েছে ব্যাংকটি। ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি ও বাস্তবতাকে বিবেচনা করেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইউসিবি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ এবং তাঁর ভাই ও স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাতে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার ছিল। তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির বিভিন্ন অনিয়মের সাথে এই পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর ভাই, স্ত্রী এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দেশ ছেড়ে চলে যান। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং অনিয়মের দায়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে। এর ফলে ব্যাংকটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৩০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যার কারণে নতুন করে শেয়ার ইস্যু করার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই আইনি জটিলতা কাটাতে ইউসিবি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানায় এবং সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই ব্যাংকটি এই বিশেষ ছাড় লাভ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানানো হয়, আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইউসিবি নতুন করে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তারা এই প্রক্রিয়ায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছিল। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪ক (১) ধারায় উল্লেখ আছে যে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা কোনো পরিবারের সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা অন্যের সঙ্গে যৌথভাবে বা উভয়ভাবে, কোনো ব্যাংকের ১০ (দশ) শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে পারবেন না। এই আইনি বিধিনিষেধের কারণে ইউসিবি দেশি বা বিদেশি কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্কের শেয়ার ইস্যু করতে পারছিল না। এখন এই বিধিনিষেধ থেকেও বিশেষ অব্যাহতি পাওয়ায় ব্যাংকটি যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে সক্ষম হবে।

এই বিশেষ ছাড়ের বিষয়ে ইউসিবির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা জীশান কিংশুক হক বলেন, “ইউসিবিকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আস্থাশীল ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে ব্যাংকের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৮০০ কোটি টাকার বন্ডও ইস্যু করা হবে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ইউসিবিতে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগটি সীমিত ছিল এত দিন। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিধান থেকে ইউসিবিকে অব্যাহতি দেওয়ায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আনার পথটি সহজ হবে।”