প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও বিস্তৃত করতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসীরা এখন বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ জমা রাখা, দেশের অভ্যন্তরে ব্যয় করা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগসহ বহুমুখী ব্যাংকিং সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এই লক্ষ্য অর্জনে নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআরসিটিএ (NRCTA) পরিচালনার বিদ্যমান নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নতুন নির্দেশনার কথা জানিয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে প্রবাসীরা যেসব বিশেষ সুবিধা পাবেন তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
একাধিক ব্যাংকে হিসাব খোলার সুযোগ: এখন থেকে প্রবাসীরা কেবল অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে নয়, বরং অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোতেও এনআরসিটিএ হিসাব খোলার সুযোগ পাবেন।
তিন ধরনের হিসাবের বিকল্প: গ্রাহকদের প্রয়োজন ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে সঞ্চয়ী, চলতি এবং মেয়াদি—এই তিন ধরনের হিসাব খোলার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিদেশ থেকে অর্থ জমা করার প্রক্রিয়া: ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস এবং মানি ট্রান্সফার অপারেটরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ সরাসরি এই হিসাবে জমা করা যাবে। এছাড়া প্রবাসীদের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করে এই অ্যাকাউন্টে জমা রাখার সুযোগ থাকছে।
দেশে অর্থ ব্যয় ও বিনিয়োগের সুযোগ: এই হিসাবে জমা থাকা অর্থ ব্যবহার করে প্রবাসীরা দেশে তাদের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পারবেন। পাশাপাশি অন্য হিসাবে টাকা স্থানান্তর এবং সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
জমা অর্থের বিপরীতে ঋণ সুবিধা: এনআরসিটিএ হিসাবে জমা থাকা অর্থ জামানত হিসেবে রেখে প্রবাসীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিদেশে অর্থ প্রত্যাবাসন: এই হিসাবের মূল অর্থ এবং সেই অর্থের বিপরীতে অর্জিত সুদ বা মুনাফা পুনরায় বিদেশে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।
আধুনিক অনলাইন ব্যাংকিং সেবা: প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে ব্যাংকগুলো এখন অনলাইনে হিসাব খোলার সুবিধা এবং ই-ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে পারবে।