ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে টানা তিন জয়ের পর প্রথমবার হারের মুখ দেখল স্বাগতিক পাকিস্তান। দিলশান মাদুশঙ্কার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের সামনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান দল। জবাবে কামিন্দু মেন্ডিসের অপরাজিত ফিফটিতে ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল শ্রীলঙ্কা। এই ফলাফলের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল ইংল্যান্ড।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে শুরু থেকেই লঙ্কান বোলারদের নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ২৫.৩ ওভারের স্বল্প সময়েই ১১০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান তুলে অনায়াসে জয় পায় শ্রীলঙ্কা। জয়ের সময় হাতে ছিল ১৯১টি বল।

পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সূচনা করেন বাঁহাতি পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই দলীয় ১১ রানে ফখর জামানকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ফখর ১৩ বলে মাত্র ৫ রান করতে সক্ষম হন। এরপর আসিথা ফার্নান্দোর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন মাজ সাদাকাত, যার সংগ্রহ ছিল ১১ বলে ৮ রান।

দুই ওপেনার দ্রুত বিদায় নিলেও বাবর আজম ও সাদ বেগ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে সেই প্রচেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলীয় ৪৬ রানে সাদকে আউট করে আবারও আঘাত হানেন মাদুশঙ্কা। উইকেটরক্ষক ব্যাটার সাদ ৮ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন।

এরপরই স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনে ধস নামে। দলীয় ৬১ রানে পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় পাকিস্তান। প্রথমে সাহান আরাচ্চিগের বলে আউট হন সালমান আলী আগা, যিনি মাত্র ৯ রান করতে পারেন। পরের ওভারের প্রথম বলেই এশান মালিঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন বাবর আজম। ৩৩ বলে ৫টি চারসহ ২৯ রান করেন বাবর, যা ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

উইকেট পতনের ধারা থামেনি। দলীয় ৬৪ রানে আরাচ্চিগের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন শাদাব খান। মাত্র ৫ বলে ২ রান করে বিদায় নেন তিনি। উল্লেখ্য, আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে পাকিস্তানকে জয় এনে দেওয়া শাদাব এবার ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন।

৬৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস কিছুটা লড়াই করেন। সপ্তম উইকেটে তারা ২৭ রানের জুটি গড়েন। তবে সেই জুটি ভেঙে আবারও আক্রমণ করেন মাদুশঙ্কা। ১৮ বলে ১০ রান করে আউট হন আরাফাত। এরপর ৩১ বলে ১৭ রান করা হাসান নওয়াজকে আউট করেন দুনিথ ওয়েলালাগে। মাদুশঙ্কার বলে হারিস রউফ বিদায় নিলে ৯২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।

শেষ দিকে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ১৩ বলে দুটি ছক্কাসহ ১৫ রান করে দলের সংগ্রহ ১০০ পার করেন। তবে তাকেও আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মাদুশঙ্কা। ৮.৩ ওভারে একটি মেডেনসহ ৩৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এই পেসার। সাহান আরাচ্চিগে নেন ২ উইকেট। এছাড়া আসিথা ফার্নান্দো, এশান মালিঙ্গা ও দুনিথ ওয়েলালাগে একটি করে উইকেট পান।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই মাদুশঙ্কার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এর আগে ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৮০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার আরও কম রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নিলেন লঙ্কান এই পেসার।

১১১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিস ও আভিশকা ফার্নান্দোর উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫০ রান। সপ্তম ওভারে আভিশকাকে আউট করে পাকিস্তানকে প্রথম সাফল্য এনে দেন শাহিন আফ্রিদি। আভিশকা ১৭ বলে ১৬ রান করেন।

তিন নম্বরে আসা অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি। ৬ বলে ৮ রান করে আরাফাত মিনহাসের বলে বোল্ড হন তিনি। তখন লঙ্কানদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬২ রান। তবে এরপর কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫২ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন পবন রত্নায়েকে।

কামিন্দু মেন্ডিস ৬০ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে রত্নায়েকে ২৬ বলে ২টি চারে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই জয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করে নেয় শ্রীলঙ্কা।

এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজে দ্বিতীয় জয় পেল শ্রীলঙ্কা। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৩০ রান তাড়া করে তারা রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছিল। অন্যদিকে চার ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা পাকিস্তান আগেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লাহোরেই সিরিজের শেষ লিগ ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। এরপর শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।