শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে শুরুতেই দুই ওপেনারের দ্রুত পতনে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। তবে দলের সেই কঠিন মুহূর্তে ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়ান অলরাউন্ডার সালমান আলী আগা। তাঁর দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বিপদ কাটিয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। সালমানের এই অনবদ্য ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে শ্রীলঙ্কার সামনে ৩০৬ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য সেট করেছে পাকিস্তান।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে এই চমক দেখান সালমান। মাত্র ৯০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এটি তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। সালমানের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৪৯ ওভার ৫ বলে মোট ৩০৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।

ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিকদের শুরুটা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। দলীয় মাত্র ৩২ রানের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান দুই ওপেনার সাইম আইয়ুব (৭ রান) ও ফখর জামান (১৬ রান)। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে তৃতীয় উইকেটে ৭৪ রানের একটি জুটি গড়েন বাবর আজম ও অভিষিক্ত সাদ বেগ।

তবে এই জুটির কেউই ব্যক্তিগত অর্ধশতক স্পর্শ করতে পারেননি। ৫৭ বলে ৪৫ রান করে বিদায় নেন বাবর, আর ৪০ বলে ৩৯ রান করেন সাদ। তাঁদের দুজনের প্রস্থানের পর দলের ব্যাটিংয়ের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সালমান আলী আগা।

পঞ্চম উইকেটে হাসান নওয়াজের সঙ্গে ৯৭ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে দুইশ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন এই অলরাউন্ডার। হাসান ৩৭ রান করে আউট হওয়ার পর আরাফাত মিনহাসের সঙ্গে আরও ৬৪ রান যোগ করেন তিনি। এই জুটিতে মিনহাস করেন ১৮ রান।

ব্যাটিংয়ের এই পর্যায়েই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক পূর্ণ করেন সালমান। এরপর তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। আসিথা ফার্নান্দোকে টানা দুটি চার মেরে মাত্র ৮২ বলে নিজের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এটি এই ফরম্যাটে তাঁর দ্রুততম শতক হিসেবে রেকর্ড গড়ল।

তবে শতক করার পর ইনিংসটি খুব বেশি দীর্ঘ করতে পারেননি সালমান। ৪৭তম ওভারে ফের ফার্নান্দোর বলে আউট হন তিনি। বিদায় নেওয়ার আগে তাঁর সংগ্রহ ছিল ১০৭ রান। সালমানের পতনের পর দ্রুত উইকেট হারাতে শুরু করে পাকিস্তান। একপর্যায়ে ৬ উইকেটে ২৭৯ রান তোলা দলটি শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভার ৫ বলে ৩০৫ রানেই অলআউট হয়ে যায়।

শ্রীলঙ্কার হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল হন এশান মালিঙ্গা, যিনি ৪৬ রানে ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া আসিথা ফার্নান্দো ৫৯ রানে ৩টি উইকেট নেন। তবে সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল সালমানের। শুরুর দিকের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর তাঁর এই সেঞ্চুরিতেই লড়াই করার মতো পুঁজি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে স্বাগতিক দল।