শুবমান গিলের করা বিশ্ব রেকর্ডটি এক মাসও স্থায়ী হতে পারেনি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম দ্বিশতক হাঁকিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ভারতের ওয়ানডে অধিনায়ক। তবে আজ সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক।
রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক বিধ্বংসী ইনিংসে মাত্র ১১৪ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক।
ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে এটিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে এই ফরম্যাটে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের রেকর্ডটি ছিল বেন স্টোকসের দখলে। ২০২৩ সালে ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্টোকস সর্বোচ্চ ১৮২ রান করেছিলেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজের এই ম্যাচটির শুরুটা খুব একটা ছন্দময় ছিল না ব্রুকের জন্য। চার নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ২৪ বলে তিনি সংগ্রহ করেন মাত্র ১৩ রান। তবে কামিন্দু মেন্ডিসের একটি ওভারে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি রানের গতিতে পরিবর্তন আনেন। এরপর সুইপ, স্কুপ, রিভার্স স্কুপ এবং আরও অনেক দৃষ্টিনন্দন শটের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বHবোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। ৭৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ব্রুকের ব্যাটিং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
তৃতীয় উইকেটে জো রুটের সঙ্গে ১৫৯ রানের একটি বড় জুটি গড়ার পর উইল জ্যাকসের সঙ্গে আরও ১৮৫ রান যোগ করেন তিনি। অন্যদিকে উইল জ্যাকসও মাত্র ২৫ বলে ফিফটি তুলে নেন।
ইংল্যান্ড ইনিংসের ৪৯তম ওভার শেষে ব্রুকের সংগ্রহ ছিল ১৮৬ রান। শেষ ওভারে জানিত লিয়ানাগের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান তিনি। পরের দুই বলে দুটি ডাবল নিয়ে রান বাড়িয়ে নেন ১৯৬। এরপর চতুর্থ বলে একটি স্কুপ শটে বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দুই শোর মাইলফলকে পৌঁছে যান তিনি।
ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর নামের পাশে ছিল ১১৬ বলে ২০২ রান, যার মধ্যে ছিল ২১টি চার ও ১০টি ছক্কা।
ব্রুকের এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪২৯ রান সংগ্রহ করেছে ইংল্যান্ড। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোনো দলের করা এটাই সর্বোচ্চ রান। এছাড়া পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডটিও এখন ইংল্যান্ডের দখলে।
এর পাশাপাশি আরেকটি বিরল কীর্তি গড়েছেন হ্যারি ব্রুক। টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি, ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি এবং টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি—তিনটি ভিন্ন ফরম্যাটে এই তিনটি মাইলফলক স্পর্শ করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। এর আগে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের করা ছিল এই অনন্য কীর্তি।