সালমান আলী আগারের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ গড়েছিল পাকিস্তান। যদিও শ্রীলঙ্কার পাল্টা লড়াইয়ে এক সময়ে সেই রান যথেষ্ট মনে হচ্ছিল না, তবে শেষ মুহূর্তে বোলারদের দাপটে জয় ছিনিয়ে নিল স্বাগতিকরা। পাভান রত্নায়েক ও জানিথ লিয়ানাগের বড় জুটিতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করলেও শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি হাতছাড়া করল সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৩৭ রানের জয় নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা করল পাকিস্তান।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৪৯ ওভার ৫ বলে ৩০৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৮ ওভার ১ বলে ২৬৮ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের অংশগ্রহণে আয়োজিত তিন জাতির প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ছিল বেশ বিপর্যয়কর। দলীয় মাত্র ৩২ রানের মাথায় দুই ওপেনার সাইম আইয়ুব (৭) ও ফখর জামানকে (১৬) প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান দিলশান মাদুশঙ্কা। তবে তৃতীয় উইকেটে বাবর আজম ও অভিষিক্ত সাদ বেগ ৭৪ রানের একটি জুটি গড়ে দলের বিপর্যয় সামাল দেন। বাবর ৪৫ এবং সাদ ৩৯ রান করে আউট হলে স্বাগতিকরা আবারও চাপের মুখে পড়ে।
সেই কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন সালমান আলী আগার। হাসান নওয়াজের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে তিনি ৯৭ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। হাসান ৩৭ রানে আউট হওয়ার পর আরাফাত মিনহাসের সঙ্গে আরও ৬৪ রান যোগ করেন তিনি। এই ব্যাটিংয়ের মাঝেই মাত্র ৮২ বলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সালমান।
শেষ পর্যন্ত ৯০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৭ রান করেন সালমান। তবে তার বিদায়ের পর শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারায় পাকিস্তান। একপর্যায়ে ৬ উইকেটে ২৭৯ রান তোলা দলটি শেষ চার উইকেট হারায় মাত্র ২৬ রানে। শ্রীলঙ্কার হয়ে এশান মালিঙ্গা ৪৬ রানে ৪টি এবং আসিথা ফার্নান্দো ৫৯ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন।
৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় ৩০ রানে আভিশকা ফার্নান্দোকে (৫) আউট করেন নাসিম শাহ। এরপর কুশল মেন্ডিস (১৯), কামিন্দু মেন্ডিস (৪৪) ও সাহান আরাচ্চিগে (৩) দ্রুত ফিরে গেলে ২০তম ওভারের মধ্যেই ৯১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।
তবে পঞ্চম উইকেটে পাভান রত্নায়েক ও জানিথ লিয়ানাগে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের মধ্যকার ১১৯ রানের জুটিতে ম্যাচে পুনরায় ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। রত্নায়েক ৭৪ বলে ৬টি চার ও ২ টি ছক্কায় ৭৯ রান করেন এবং লিয়ানাগে ৭৪ বলে ৬০ রান সংগ্রহ করেন।
৩৮তম ওভারে রত্নায়েককে আউট করে এই গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন ফাহিম আশরাফ। এরপরও লিয়ানাগের ব্যাটিংয়ে জয়ের আশা ধরে রেখেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ৪৪তম ওভারে তাকে আউট করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় পাকিস্তানের হাতে ফিরিয়ে আনেন হারিস রউফ।
লিয়ানাগে আউট হওয়ার সময় শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ২৫৩ রান। জয়ের জন্য তখন ৩৮ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৩ রান। হাতে চার উইকেট থাকায় লড়াইয়ের সুযোগ থাকলেও এরপর মাত্র ৭ রান যোগ করতেই আরও তিনটি উইকেট হারিয়ে বসে তারা।
৪৫তম ওভারে দাসুন শানাকাকে (২৮) আউট করে নিজের তৃতীয় উইকেটটি পান পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপর নাসিম শাহর বোলিংয়ে শচিন্দু কলম্বাগে আউট হলে বিপদ আরও বাড়ে। ঠিক তার পরের বলেই রানআউট হন এশান মালিঙ্গা। ফলে ২৬০ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।
৪৯তম ওভারের প্রথম বলে আসিথা ফার্নান্দোকে বোল্ড করে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান রউফ। পাকিস্তানের হয়ে ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেন শাহিন। এছাড়া নাসিম, রউফ ও ফাহিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন।