জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৮৮ রান, অথচ হাতে মাত্র এক উইকেট। ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের অপেক্ষায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু তখনো হাল ছাড়েননি শাদাব খান। শেষ ব্যাটার হারিস রউফকে নিয়ে অবিশ্বাস্য এক লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিলেন এই অলরাউন্ডার। তার ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিতে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪৬ ওভার ৪ বলে ২৪১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। জবাবে ৪৭ ওভার ১ বলে ৯ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকেরা। ৯৬ বলে ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন শাদাব। শেষ উইকেটে হারিস রউফের সঙ্গে ৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে পাকিস্তানকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন তিনি।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরু থেকেই বিপদে ছিল পাকিস্তান। দলীয় ৩১ রানের মধ্যেই ফিরে যান ফখর জামান (১০), সাইম আইয়ুব (৬) ও বাবর আজম (১০)। এরপর ২২ বলে ৩২ রান করা সাদ বেগ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তাকে ফিরিয়ে দেন জেমি ওভারটন।

মাঝের ওভারগুলোতেও নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। সালমান আলী আগা ২৬ ও হাসান নওয়াজ ১৫ রান করে ফেরেন। আরাফাত মিনহাস করেন মাত্র ১ রান। দলীয় ১৩১ রানে অষ্টম ব্যাটার হিসেবে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ফেরার পর ১৫৪ রানে নবম উইকেটও হারায় পাকিস্তান। তখন ইংল্যান্ডের জয়কে কেবল সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল।

সেই অবস্থায় হারিস রউফকে নিয়ে অসম্ভব এক লড়াই শুরু করেন শাদাব। একদিকে ইংলিশ বোলারদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকেন, অন্যদিকে শেষ ব্যাটারকে যতটা সম্ভব স্ট্রাইক থেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেন। ৩৮তম ওভারে ছক্কা মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন শাদাব। এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানের সংখ্যা।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে ৪৫তম ওভারে। গাস অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান শাদাব। তখন তার সংগ্রহ ৯৭ রান। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা জয়ের উদ্‌যাপনও শুরু করে দেন। হতাশ শাদাব প্রায় মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ উইকেট হওয়ায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তিনি।

রিপ্লেতে আল্ট্রাএজ প্রযুক্তিতে দেখা যায়, প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগেছিল বল। ফলে সিদ্ধান্ত বদলে নটআউট ঘোষণা করেন তৃতীয় আম্পায়ার। ইংল্যান্ডের উদ্‌যাপন মুহূর্তেই পরিণত হয় হতাশায়। নতুন জীবন পেয়ে পাকিস্তানকে জেতানোর লড়াই চালিয়ে যান শাদাব।

শেষ চার ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। ৪৭তম ওভারের প্রথম বলে রউফ এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন শাদাবকে। তখন তার সংগ্রহ ৯৯ রান। অ্যাটকিনসনের পরের বলেই চার মেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। পরের বলে আরও একটি চার হাকানোর পর ওভারের শেষ বলে বিশাল ছক্কা মেরে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান নামিয়ে আনেন মাত্র তিনে।

পরের ওভারের প্রথম বলেই হেনরি ক্রোকম্বকে চার মেরে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন রউফ। ১৯ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ছোট্ট ইনিংসটিও শেষ পর্যন্ত অমূল্য হয়ে ওঠে পাকিস্তানের জন্য।

এই জয়ে ওয়ানডেতে আট নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ক্রিকেটার হলেন শাদাব। একই সঙ্গে টানা তিন ম্যাচ জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালও নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল ইংল্যান্ড। শাহিন আফ্রিদির দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৯ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। টম ব্যান্টন ৪, জো রুট ৫ ও অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১ রান করে ফেরেন। পরে জর্ডান কক্সও ৬ রানে আউট হলে ৫২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন বেন ডাকেট ও স্যাম কারান। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। ৫২ বলে ৪২ রান করে কারান ফেরার পরও লড়াই চালিয়ে যান ডাকেট। ১১১ বলে ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রান করেন তিনি। শেষ দিকে গাস অ্যাটকিনসনের ২৮ বলে অপরাজিত ৩৬ রানে ২৪১ পর্যন্ত পৌঁছায় ইংল্যান্ড।

পাকিস্তানের হয়ে ৮ ওভার ৪ বলে ৪৬ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন শাহিন আফ্রিদি। দুটি করে উইকেট পান আরাফাত মিনহাস ও অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ।

অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় ভূমিকা ছিল ইংল্যান্ডের জেমি ওভারটনের। ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। গাস অ্যাটকিনসন ও লিয়াম ডসন পান দুটি করে উইকেট।